‘করোনাকালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বানিজ্য’

করোনাকালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বানিজ্য!

News News

Desk

প্রকাশিত: ১:৩৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২১

‘২৮ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা দানের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বেশ ভূমিকা রেখে আসছে। দেশের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই কলেজগুলোতে অধ্যয়ন করে। তবে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষাকে যেমন পণ্যে রূপান্তরিত করে লক্ষ/কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়, তেমনি এখানকার শিক্ষার্থীদের হেয় করে দেখা, মানসিকভাবে অমর্যাদাও করা হয়। এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষার মান কে উন্নত করে না। বরং কোন খাতে থেকে কিভাবে ফি আদায় করা যাবে সেই চিন্তা উন্নত করে। আর তার-ই কারসাজি দেখা গেল এই করোনাকালীণ সময়ে।

বর্তমানে করোনা মহামারির কারণে দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে গেছে। এর প্রভাব হরহামেশাই দেখতে পাওয়া যায়। আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিংহভাগই আসে দারিদ্র্য, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। কিন্তু এই নিদারুণ পরিস্থিতিতেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ধার্যকৃত ফি নিতে খুবই সোচ্চার।
ছাত্র-ছাত্রী সংসদ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, চিকিৎসা না থাকলেও তার ফি আছে। খেলাধুলা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, আভ্যন্তরীণ ক্রীড়া, ম্যাগাজিন, লাইব্রেরী, উন্নয়ন তহবিল, ল্যাবরেটারী, পরিবহন, সেমিনার সহ বিবিধ খরচের কার্যক্রম বর্তমানে নাহলেও শিক্ষার্থীদের গুনতে হবে প্রত্যেকটা টাকা। এছাড়াও নামে বেনামে সর্বসাকুল্যে ৫,৫০০ থেকে ৭,০০০ টাকা পর্যন্ত ধার্য করেছে কর্তৃপক্ষ।

খ্যাতিনামা সরকারি সৈয়দ হাতেম আলি কলেজেও দেখা গেল এই করোনাকালীণ সময়ে শিক্ষার্থীদের ফর্ম পূরণের মাধ্যমে কোন বিভাগ কত বেশি টাকা উপার্জন করে রাখতে পারে তার প্রতিযোগিতা চলছে। গত দেড়বছরে শিক্ষার্থীরা কোনো সুবিধা গ্রহণ না করলেও চাপের মাধ্যমে শেষ সম্বল দিয়ে ফর্মপূরণ করতে বাধ্য করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এর-ই প্রতিবাদে গত ৭ও৮আগস্ট আমরা সরকারি সৈয়দ হাতেম আলি কলেজ সেশন ২০১৮-১৯ সকল বিভাগের এর পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ বরাবর সেশন চার্জ মওকুফের দাবি জানিয়ে আবেদন পত্র প্রদান করেছি। এসময়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তাদের পক্ষে নাকি কিছুই করার নেই, সব টাকা নাকি মন্ত্রণালয়ে দিতে হবে। আমরা বলতে চাই, এগুলো সবই বাচ্চা বোঝানো/ ঘুম পাড়ানো কথা।

তাই এই করোনাকালীণ সময়ের সেশন চার্জ সহ সকল ফি মওকুফের দাবিতে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলি কলেজ শিক্ষাবর্ষ ২০১৮-১৯ সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ আগামী ১২আগস্ট বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধে কর্মসূচী ঘোষণা দিয়েছে।