গল্প, “অপুর প্রেম”, মুশফিকুর রহমান অনিকঃ পর্ব-০১

News News

Desk

প্রকাশিত: ৪:৫৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২১

হাইস্কুল জীবনের গন্ডি পেড়িয়ে যখন কলেজ জীবনে পদাপর্ন করিলাম তখন নিজেকে খুব অন্যরকম মনে হওয়া শুরু হইলো। হাইস্কুলের ইউনিফর্মটাকে তখন গা থেকে ফেলে দিয়ে রঙিন পোশাকে মন দিতে ইচ্ছে হইলো।

তবুও প্রিন্সিপালের করা নিয়মে সেটা আর গা থেকে ফেলিতে পারিলাম নাহ। ওটাকে যে আরো বছর দুয়েক পড়িতে হইবে তাহা অনিচ্ছা সত্যেও মেনে নিতে হইলো।ঐ দিকে বাবাও কড়া হুশিয়ারি দিলেন এস.এস.সি ভালো ফলাফল করিয়া ও তার মর্জিমত ফলাফল করিতে পারি নাই বিধায় এবার এইচ.এস.সি তে যেন ভালো ফলাফল করি সেই সতর্ক সংকেত দিলেন। সেই জন্য আমাকে ম্যাচে স্যার এবং বড় ভাইদের সাথে থাকার ব্যাবস্থা করিলেন। অতঃপর শুরু হইলো আমার এক ব্যাচেলার জীবন।

আমি খুব ঘুম প্রিয় মানুষ তাই রুমে প্রায় সময়ে ঘুমিয়ে কাটাতাম।সেই জন্য বড় ভাইয়েরা কিংবা স্যারেরা আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করিতো। রুমের এক ভাই আমাকে জিজ্ঞেস করিলো ভাই তুমি এত ঘুমালে পড়ো কখন? পরিক্ষায় কি লিখবে? তখন আমি হাসির ছলে বলিলাম ভাই যারা ঘুৃমায় তারা খুব মেধাবী হয়। ভাই তখন আর কিছু বলিলো নাহ।রুম থেকে চলে গিয়ে তাহার নিজ কাজে পদাপর্ন করিলো। আমি খুব সহজ সরল এবং আত্নভোলা মানুষ ছিলাম কখন কি করিতাম তা নিজেও বুজিতাম নাহ। একবার গনিত বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এত ভালো পরিক্ষা দিয়া আসিলাম অথচ নিজের নামটাই লিখিলাম নাহ।সেই নিয়ে কত হাসাহাসি। যাহগে কলেজ জীবনের শুরুটা ঠিক এভাবেই কাটতে রইলো।বাড়িতে ফিনানশিয়াল প্রবলেন থাকলেও তেমন প্রাইভেট পড়তাম নাহ। স্যারদের কাছেই থাকতাম বিধায় কাজটা সেরে ফেলতাম।
তবে তাও ঘুম প্রিয় মানুষ হওয়ায় কিছু ঘুমে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে স্যারদের কাছে বকা খেতাম। তখনও ভালোই ছিলো দিনগুলো।হঠাৎ করে ইউনিফর্মে ভিতরে যে রঙিন প্রচ্ছদের একটা রঙিন গল্প কিংবা মোহ আমাকে আকৃষ্ট করিলো।বদলে যেতে শুরু করিলাম এই আমিটা।

 

মুশফিকুর রহমান অনিক
পটুয়াখালী সরকারি কলেজ, পটুয়াখালী।