প্রধানমন্ত্রীর নিকট শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরলেন সুমনা আক্তার!

News News

Desk

প্রকাশিত: ৯:৪৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২১

সুমনা আক্তারঃ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ১.৫বছর হতে চলছে, এমতাবস্থায় সবচেয়ে করুন দশা আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের। ভালো লেখাপড়া করানোর আশায় স্বনামধন্য কলেজ বা কোচিং এ ভর্তি করিয়েছিলেন বাবা-মা। চারদিক বদ্ধ দেয়ালে নিজেকে আর কতোদিন বদ্ধ করে রাখবো আমরা??

আমি দিন যতই যাচ্ছে মানসিক অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি আমি নিজেকে সুস্থ মনে করছিনা। এখন আমি ভিষণ ভাবে মোবাইলে আসক্তি হয়ে গেছি। আমার স্বপ্ন গুলো শুরু হতে না হতেই শেষ হতে যাচ্ছে।

আমার দিনকে রাত, রাতকে দিন মনে হচ্ছে, আমার আবারও ইচ্ছে করছে সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে যে দিনগুলো আমি হাসি আনন্দে কাটাতাম বন্ধু-বান্ধুবীদের সাথে। আমার আবারও ইচ্ছে করছে চারদেয়ালকে ভেঙ্গে আবারও সুস্থ জীবনযাপন করতে।

 

আমি ফিরে পেতে চাই  আমার কলেজ জীবন যে জীবন আমাকে সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন দেখাতো, আমাকে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ দেখাতো, কিন্তু প্রতিষ্ঠিত হয়েও লাভ কী এ সমাজে তো মধ্যবিত্তের দাম নেই। এ সমাজ উচ্চবিত্তদের কথাই চলে এ সমাজ পুঁজিপতি আর অপশক্তিতে বলিয়ান নেতাদের কথাতেই চলে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কথা তো তাদের ভাবনায় আসে না।

আমার প্রশ্ন করোনা কী স্কুল -কলেজ,আর আমাদের মধ্যবিত্তদের ব্যাবসায়?
শিল্পকারখানা,অফিস, আদালত সব খুলে দিয়েছেন সেখানে কী করোনা নেই ? সেখানেও তো হাজার শিক্ষার্থীর বাবা-মা চাকরি করেন তাহলে তাদের ও তো জীবিকার তাগিদে বাহির হতে হয়। স্কুল -কলেজ বন্ধ রেখে ভাবছেন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, কিন্তু তার বাবা-মাও বাহিরে অফিস করেন তাহলে তার নিরাপত্তা কিভাবে রইলো ?

এ অবস্থায় অনেক কোচিং বন্ধ হয়ে গেছে একবার কী ভেবে দেখেছেন তাদের কথা ? তারা দু বেলা দু মুঠো ভাত খেতে পারছে নাকি না ? তাদের পরিবার কিভাবে চলছে ?

কিন্তু তারাও তো স্বপ্ন দেখছিল তারা প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের বয়স্ক বাবা-মাকে আর কষ্ট করতে হবেনা আর অথচ স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়ে তারা আজ নিজেকে খুব দূর্বল ও ছোট মনে করছে। তারা আর এত মানসিক চাপ নিতে পারছেনা । এরকম ভয়াবহ অবস্থা দেখে অনেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী নিজের স্বপ্ন গুলোকে গলা টিপে হত্যা করছে। তারা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে রঙিনস্বপ্ন দেখতে পারছেনা।

অযৌক্তিক, অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তে ধুলিস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে লাখো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, হাজার হাজার ভালো শিক্ষার্থী শুকনো ফুলের মতো ঝরে যাচ্ছে। আমার বাবার ব্যবসা কিংবা দোকান কিংবা কোচিং সেন্টার প্রায় দুই বছর যাবৎ বন্ধ, মাঝখানে খুলেও আবার অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তে মুখ থুবড়ে পড়েছে ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলো, সেখানে আমরা ঘড় ভাড়া, দোকান ভাড়া, গোডাউন ভাড়া, স্কুল-কলেজের বেতন কিভাবে দিব ?

যেখানে আমরা দুবেলা ঠিকমতো খেতে পারছিনা সেখানে আমরা কিভাবে পড়াশোনা করবো ? আমরা তো না খেয়ে মারা যাবো, আমাদের মতো মধ্যবিত্তরা কী আর স্বপ্ন দেখবো না ??

উচ্চবিত্তবানদের তো সমস্যা নাই বাড়ি আছে আলিশান গাড়িতে চলে বেগবান, ব্যাংক থেকে টাকা তুলবে আর খাবে, কিন্তু আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের কী হবে ?আমরা তো নিম্নবিত্তও না যে হাত পেতে খাবো। তাহলে সমাজে মধ্যবিত্তের কী হবে তাদের কথা কী একবার ভেবে দেখেছে কেউ??

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে আমি বিনীত অনুরোধ করছি আমার স্বপ্নবাজ মনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিন। আমার বাবার মতো অনেক বাবাদের ব্যাবসা, কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের জন্য একটু ভাবুন। নাহলে আমরা পড়াশোনা করতে পারবো না। নচেত আমাদের মতো মধ্যবিত্তের শুধু স্বপ্ন নয় গলা টিপে হত্যা করতে হবে নিজেকেও।

 

এইচএসসি
লগাঁও মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ঢাকা।
শিক্ষাবর্ষঃ (২০১৯-২০)