মাঠে যেতে শঙ্কা, মোবাইল-কম্পউিটার গেমসে বাড়ছে আসক্তি

News News

Desk

প্রকাশিত: ২:১৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২১

খান ইমরানঃ দুপুর গড়িয়ে বিকাল আর নেই ছুটরি ঘণ্টা। বাড়ি ফিরে তাড়াহুড়োয় পোশাক বদলে খেয়ে না খেয়েই দে দৌড়,খেলার মাঠে র্সূয ডোবার আগ র্পযন্ত চলতো ফুটবল- ক্রিকেট সহ বিভিন্ন রকমের দেশি বিদেশি খেলা ৷ সে খুশির মগ্নতা থাকার দিন উবে গেছে এখনকার করোনাকালে। চলছে এন্ড্রয়ডে মোবাইলে ইলকেট্রনিক্স ডিভাইস গেইমে কিশোরদের আসক্ততা ৷

মোবাইল হতাশায় ছাদ থেকে পরে কিশোরের মৃত্যু

গ্রামাঞ্চলের মাঠগুলো এখন গবাদি পশুর চারণভূমি মাঠে নেই, কিশোর-তরুণদের এখন রাস্তার মোড়ের চায়ের দোকানে কিংবা কোনো নির্জন স্থানে বসে সময় কাটাতেই বেশি দেখা যায়।অনেকে সঙ্গদোসে তলিয় যাচ্ছে মাদকের দুনিয়ায়। এতে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। তবে মাদকাসক্তির থেকেও র্স্মাটফোনে আসক্তি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে উঠছে তরুণদের মনের বিকাশ গঠনে, চরিত্র গঠনে।প্রায় সবার হাতে শোভা পাচ্ছে র্স্মাটফোন।

আগের মতো এখন আর গ্রামে টুর্নামেন্ট দেখা যায় না, যে টুর্নামেন্ট গুলোতে নিজ গ্রামের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করত তরুণরা। শক্তি বাড়াতে জেলা, বিভাগ কিংবা বরিশাল শহরের নামি ক্লাব আর একাডেমি থেকে দুয়েকজন খেলোয়াড় ভাড়া করে নেওয়া হতো। এখন চিত্রটা পুরোপুরি উল্টো। যাও দুয়েকটি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে অংশ নেওয়া দলগুলো ভাড়ার খেলোয়াড় দিয়েই একাদশ সাজায়। নিজ গ্রাম কিংবা মহল্লার খেলোয়াড় থাকে দুয়েকজন। এর কারণ একটাই, মাঠের খেলায় এখন আর তেমন আগ্রহ নেই।

বর্তমানে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতাও মিলছে না । খেলাধুলায় শিশু-কিশোরদের বিকাশে এটা বিরাট অন্তরায়। দায় পরিবারেরও আছে। সন্তানের হাতে যদি ফুটবল তুলে দেওয়া না , ব্যাট তুলে দেওয়া না , মাঠে পাঠানোর তাগিদ যদি অভিভাবকের মধ্যে না থাকে, তা হলে তারা তো ঘরে বসে বিভিন্ন ডিভাইস নিয়েই সময় কাটাবে। এতে শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যহত হচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শিশু-কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. অসীম কুমার সাহা বলেন, ব্রেইনের যে অংশটা যে দিকে খাটাবে, ওই অংশটাই কেবল বিকশিত হবে। বাকি অংশগুলো কিন্তু আর বিকশিত হয় না। এই শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রেও এমনটি হচ্ছে। এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে যেমন লক্ষণ থাকে, ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে আসক্তিদের ক্ষেত্রেও সেরকম দেখা যাচ্ছে। তাদের ব্রেইনের বিকাশ ঠিকভাবে হচ্ছে না। স্বাভাবিক জীবনযাপনে এটা বড় অন্তরায়।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। ছেলে-মেয়েরা দীর্ঘদিন ধরে আবদ্ধ অবস্থায় আছে। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস দখল করে নিয়েছে খেলাধুলার স্থান। আগে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক খেলাধুলার আয়োজন করা হতো, এখন এগুলো বন্ধ রয়েছে। শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে বলার কিছু নেই। তাই সবারই এদিকটাকে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। জেলার বিজ্ঞজনেরা জানানা খেলাধুলা না করা বিভিন্ন বয়সি ছেলে-মেয়ের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যহানির শঙ্কা বাড়ছে। কয়েক বছর ধরে অনলাইন নির্ভরতা বাড়ছে। করোনার সময় আরও বেড়েছে। খেলাধুলার মতো সুস্থ বিনোদনে বঞ্চিতরা প্রযুক্তিনির্ভরতায় তাদের কল্পনায় একটি কৃত্রিম জগৎ তৈরি করছে।

হতাশা ধীরে ধীরে গ্রাস করছে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের। কোভিড বাস্তবতায় অভিভাবকরা সন্তানদের মাসের পর মাস চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এ অবস্থা দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে নয়া যুবকদের অনৈতিক,মানষিক বিপর্যয়তার কোপানলে পড়ার অাশংকা দৃশ্যমান ৷