টাঙ্গাইল এর মেয়ে সাগরিকা ইকবাল এর সফল উদ্যোক্তা এর গল্প

News News

Desk

প্রকাশিত: ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩, ২০২১

আল-আমীনঃ বাংলাদেশের তাঁত শিল্পের ইতিহাস অতি প্রাচীন। বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় টাঙ্গাইল জেলা সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার। এই শিল্পের সাথে জড়িত আছে এদেশের সংস্কৃতি। আর তাঁত শিল্প আমাদের অন্যতম ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। দেশের সর্ববৃহৎ কুটির শিল্প বা লোকশিল্পও এটি। টাঙ্গাইল জেলার তাঁত শিল্প সেই সর্ব বৃহৎ শিল্পের অন্যতম অংশীদার।প্রাচীন কাল থেকে টাঙ্গাইলের দক্ষ কারিগররা তাদের বংশ পরম্পরায় তৈরি করছেন নানা জাতের কাপড়। আর কাপড় তৈরিতে লাগে সূতো। সূতো তৈরি হয় তুলো থেকে। এখানে বাপ্তা হাম্মাম ও অন্যান্য পাঁচমিশালী বস্ত্রের সূতো কাটা হতো তুলো থেকে। সে দিক থেকেও বলা যায় টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্পের ঐতিহ্য অতি প্রাচীন, এটি আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। বর্তমানে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির জন্যই টাঙ্গাইলের সুনাম বা পরিচিতি দেশের সীমা ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী।তাঁত শিল্পের বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে টাঙ্গাইলের সফট সিল্ক ও কটন শাড়ি। এই শাড়ি বুনন ও ডিজাইন দৃষ্টি কাড়ে। টাঙ্গাইলের শাড়ির বৈশিষ্ট্য হলো- পাড় বা কিনারের কারু কাজ। রেশমী সূতী মিশ্রনের সূতো শাড়ি ও লুঙ্গি প্রস্ত্তত হয়ে থাকে। এ ছাড়াও টাঙ্গাইলের তাঁতিরা তাঁতের শাড়ির, লুঙ্গি, গামছা ও চাদর তৈরি করে থাকে।

তাই টাঈাইলে এর মেয়ে সাগরিকা ইকবাল ও তার ধারাবাহিক তা ধরে টাঈাইল শারী নিয়ে অনলাইন বিজনেস শুরু করেন।

২০১৬ সালে কিছু একটা করার চিন্তা করেন সাগরিকা ইকবাল। কিন্তু কি করবেন, ঠিক করলেন নিজ জেলার ঐতিহ্য টাংগাইলের বিশ্বখ্যাত তাতের শাড়ী নিয়ে অনলাইন বিজনেস করবেন। কিন্তু কি কিভাবে? পরিবার সাপোর্ট করবে তো। প্রথম দিকে সাপোর্ট পাচ্ছিলেন না স্বামীরও। কারণ চাকরি, স্বামী ও একমাত্র সন্তান নিয়ে সংসার সামলিয়ে সময় বের করাটাও কঠিন। কিন্তু চোখ জুড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন। মনের প্রবল ইচ্ছায় লুকিয়েই মাত্র ৩ হাজার ৪৯০ টাকা দিয়ে শুরু করেন কাজ।

কিন্তু কিভাবে এ অনলাইন বিজনেস করবে সেটা নিয়ে খুবই চিন্তিত ছিলেন সাগরিকা ইকবাল ।
তার কিছু দিন পর ২০২০ সালে জুন মাসে এ সে সন্ধান পেলে নিজের বলার মতো একটা গল্প ফাউন্ডেশন।
যে গল্পে এ টানা ৯০ দিন বিনা ফ্রিতে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে তরুণ তরুণী দেয় অনলাইন এ উদ্যাক্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাই সাগরিকা ইকবাল এই গুপের ১১ তম ব্যাচ এর সদস্য হয়ে টানা ৯০ দিন প্রশিক্ষণ করেন। এই টাই একমাত্র বাংলাদেশে এ গুপ যা কি না বিনা ফ্রিতে উদ্যাক্তা বিষয়ে ট্রেনিং করানো হয় এমন টাই জানিয়েছে সাগরিকা ইকবাল ।

তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই গুপের এডমিন হাজারও তরুণ তরুনী নয়নের মনি জনাব ইকবাল বাহার জাহিদ স্যার কে। কারন তিনি প্রতিটি শেসন মনোযোগ দিয়ে পরতেন ও গুপে এ লেগে এ থাকতেন। কারন জনাব ইকবাল বাহার জাহিদ স্যার বলেছেন
ধের্য ধরুন
লেগে থাকুন
সফলতা আসবেই
এর সুএ ধরে সাগরিকা ইকবাল আজ সফলতা নিয়ে এসেছে তা জীবনে।

সাগরিকা ইকবাল জানিয়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একটি এনজিওতে চাকরি করেন সাগরিকা। চাকরির সুবাধে ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের ৩৪টি জেলা। এই ভ্রমণের মধ্য দিয়ে দৃষ্টিগোচর হয় টাংগাইলের তাতের শাড়ি ও থ্রি পিস জনপ্রিয়তার চিত্র। হাটবাজারের দোকানপাটে, শপিং মলে নারীদের প্রিয় পছন্দের যেন টাংগাইলের তাতের শাড়ী। তাই ইচ্ছাশক্তি তৈরি হয় ই-কমার্সের মাধ্যমে টাংগাইলের তাতের শাড়ী বিক্রয় করবেন। তাই একই সাথে চাকুরি, সংসার, বাচ্চা, পড়াশোনা চালিয়ে নেশায় পড়ে যান অনলাইন বিজনেসের। চাকরি-সংসার সামলিয়ে ধীর গতিতে চলতে থাকে অনলাইন বিজনেসের কাজ।

ভাওয়াল মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০০৮ সালে এইচএসসি পাস করে ২০১৩ সালে একটি বেসরকারি এনজিওতে চাকরিতে যোগ দেন সাগরিকা ইকবাল। চাকুরিতে যোগদানের পাশাপাশি উন্মুক্ত থেকে থেকে বিএসএস শেষ করেন। তারপর এশিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে সমাজকর্ম নিয়ে মাস্টার্স শেষ করেন ২০১৯ সালে। পড়াশোনা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই পুরোদমে চাকুরির পাশাপাশি অনলাইনে বিজনেসে মন দেন।

স্বপ্ন পূরণের অক্লান্ত পরিশ্রমে অবশেষে পৌছে গেছেন সফল নারী উদ্যোক্তাদের কাতারে। অনলাইনে ব্যবসা প্রসারের জন্য ফেসবুক পেজের নাম দিয়েছেন ‘শখের হাট’। ফেসবুক পেজ ও নিজের আইডিতে প্রচুর ফলোয়ার থাকায় বেশ সাড়া মেলেছে ক্রেতাদের। প্রতি মাসে তাতের শাড়ি ও থ্রি-পিস অনলাইন সেল হয় লাখ টাকার উপরে। এ রমজান মাসে সেল হয়েছে দেড় লাখ টাকার উপরে। আর তা ৯০% সেলই হয়েছে ‘নিজের বলার মত একটি গল্প ফাউন্ডেশন’-গ্রপের এর অনলাইন হাট এর মাধ্যমে। কারন এই গুপে এ প্রতি মঈলবার অনলাইন হাট বসে এছাড়া এই গুপের এর মুল স্লোগান হল
“আমরা এই ক্রেতা আমরাই বিক্রেতা”
তাই সে অনেক সাপোর্ট পেয়েছেন এই নিজের বলার মতো একটা গল্প ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে।

সাগরিকা ইকবাল জানান, প্রথম দিয়ে আমার স্বামী সাপোর্ট না করলেও এখন পুরোদমে সাপোর্টসহ বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করছে।
আর আমি সম্পূর্ণ তাতীদের নিয়ে কাজ করি। যার কারনে দামে অনেক কম ও মানেও ভালো পায় ক্রেতারা। প্রায় প্রতি মাসেই লাখ টাকার সেল হয়। আর আমার রিপিট কাস্টমারও বেশি। টাংগাইলে অবস্থানের কারণে সকল শাড়ি ও থ্রি পিস খুবই সীমিত লাভে সেল হয়। কারন ক্যারিং খরচ বেশি হয় না। পাইকারি ও খুচরা মূল্যে দুটোই দিয়ে থাকি ক্রেতাদের।

ভবিষ্যত পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে সাগরিকা তিনি বিজয়ের বাংলা দেশ কে জানানা..চাকরি নয়,নিজে সফল উদ্যোক্তা হতে চাই। এ জন্য ব্যবসার ক্ষেত্রে বেশ পুজির প্রয়োজন হয়। ইচ্ছে আছে এখানকার পিছিয়ে পড়া নারী ও শিক্ষিত বেকার মেয়েদের আত্ম-কর্মসংস্থান তৈরিতে প্রতিষ্ঠান ও বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার। কারন তিনি চান তার প্রতিষ্ঠান দ্বারা বেকারত্ব নারী সমাজ দুর হবে। সরকার তো উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, উদ্যোক্তা হিসেবে সরকারি সহযোগিতা পেলে কাজের আরো গতি পাব ইনশাআল্লাহ।