নীরবেই ফুটে গেলো কৃষ্ণচূড়া

News News

Desk

প্রকাশিত: ১২:২২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০২১

খান ইমরানঃ বাংলাদেশের প্রকৃতিতে শিমুল মানেই বসন্ত। তেমনই গ্রীষ্মকালের বাহার কৃষ্ণচূড়া ফুল। রাস্তার মোড়ে মোড়ে কৃষ্ণচূড়ার মনকাড়া গাছ। সবুজ সবুজ চিকন পাতা। ফাঁকে ফাঁকে লাল লাল কৃষ্ণচূড়া ফুল। দেখলেই যেন চোখ জুড়িয়ে যায়। মন নেচে ওঠে আনন্দে।

কৃষ্ণচূড়া একটি বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। যার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া। এ গাছ চমৎকার পত্রপল্লব এবং আগুনলাল কৃষ্ণচূড়া ফুলের জন্য বিখ্যাত। এটি ফ্যাবেসি পরিবারের অন্তর্গত একটি গাছ, যা ‘গুলমোহর’ নামেও পরিচিত।

কৃষ্ণচূড়ার ফাঁক গলিয়ে যদি ঘুঘু-শালিক ওড়াউড়ি করে! তাহলে কেমন হয়! যদি বৈশাখের কৃষ্ণচূড়ার পাতা-ফুল, কালবৈশাখী মেঘ ও চঞ্চল ঘুঘু মিলেমিশে একা কার হয়ে যায়। তাহলে দৃশ্যটিই মনে হবে স্বপ্নের মতো। এমনকি কৃষ্ণচূড়ার লাল, কমলা, হলুদ ফুল এবং উজ্জ্বল সবুজ পাতা একে অন্যরকম দৃষ্টিনন্দন করে।….

বসন্তের নয়ানাভিরাম সবুজের বুক চিরে বাহারি ফুলের রঙ আর সৌরভ নিয়ে প্রকৃতিতে গ্রীষ্ম আসে নির্মল আনন্দ নিয়ে। গ্রীষ্ম ফলের ঋতু হলেও বৈশাখ তার রূপের জানান দেয় আগুন ঝরা কৃষ্ণচূড়াসহ নানা চটকদার ফুলের পসরা সাজিয়ে। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে খাঁ খাঁ রোদ্দুরের উত্তাপে হৃদয় জুড়ানো ফুলের মায়া প্রশান্তির ফাগুনধারা বইয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছে। মহামারির মাঝে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষের মনে প্রভাব ফেলতে না পেরে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল শূন্যতা নিয়ে।

প্রতিবছর গ্রীষ্ম আসে বাহারি ফুলের সমারোহ নিয়ে। আগুন রঙা কৃষ্ণচূড়া ছাড়াও জারুল, সোনালু, স্বর্ণচাঁপা, ভাঁট, গন্ধরাজ, গোলাপ, বেলী ইত্যাদি গ্রীষ্মের প্রধানফুল হলেও পালান, দুরন্তলতা, শ্যামটিউলিপ, মে ফ্লাওয়ার, অনন্তলতা, সোনালী শাপলা, বেলি, জহুরিচাঁপা, বনপারুল, কার্ডওয়েল লিলিসহ কয়েকজাতের লিলিও এই সময়ে প্রকৃতির শোভা বর্ধণ করে। কিন্তু এইবার প্রকৃতির এই শোভা মানসপটে নতুন কোনো চিহ্ন আঁকাতে পারেনি। ভুবন মাতানো সৌন্দর্য ব্যর্থ হয়েছে মনকে ভরিয়ে দিতে।

‘ঐ এল বৈশাখ’ কবিতায় -সুকুমার রায় বলেছিলেন, মনে হয় বুঝি তার নিঃশ্বাস মাত্রে/
তেড়ে আসে পালাজ্বর পৃথিবীর গাত্রে!

সত্যিই আজ বাংলার গায়ে কালবৈশাখী রূপে করোনার পালাজ্বর সকল সৌন্দর্যকে গ্রাস করে নিয়েছে। প্রতিটি নাগরিকের হৃদয় জুড়ে বিষমুক্ত নিঃশ্বাস নেয়ার আকুতি। প্রতিটি সজীব মনে স্থান করে নিয়েছে শুধুই বেঁচে থাকার করুণ মিনতি। প্রতিটি নাগরিকের মনে আজ ভাইরাস ঝড় থামার প্রত্যাশা।