কলাপাড়া উপজেলার বৃহত্তম মৎস বন্দরে মাছ শূন্য হতাশায় মালিক ও জেলেরা !!

News News

Desk

প্রকাশিত: ৯:৪৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০২১
মোঃ সাইমুন ইসলাম, কলাপাড়া উপজেলা প্রতিনিধিঃ

বঙ্গোপ সাগরে আশানুরূপ মাছ না পাওয়ার কারনে টলার মালিক ও জেলেদের জীবনসংগ্রামে যেন তাদের বুকে চলছে হাহাকার। ফিসিং ট্রলার মালিক,জেলেরা দিন কাটাচ্ছে দুশ্চিন্তা ও হতাশায়।লাখ লাখ টাকা খরচ করে জেলেরা সাগরে গেলেও জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না আশানুরূপ মাছ। জিবন বাজি রেখে গভীর সমুদ্র গেলে শতকরা ৯৫ ভাগ জেলে খালি ট্রলার নিয়েও ফিরছেন গন্তব্য স্থানে ।জেলেরা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে সাগরে মাছের দুর্ভিক্ষ চলছে।জেলেরা এক বুক আসা নিয়ে গভির সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যায় কাঙ্খিত মাছ না পেলে ট্রলারের খরচই মেটে না,বেতন পাবো কই।গত কয়েক মাস ধরে এভাবেই চলছে তাদের জিবন যুদ্ধ। প্রতেকটি ফিসিং ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাছ সংকটে বাড়তি দামের পাশাপাশি লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
সরজমিনে দেখা যায়,পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলিপুর,মহিপুর বৃহত্তম মৎস্য বন্দরে দেখা যায় ট্রলার ফিরছে মাছ নিয়ে। তবে পরিমাণ একেবারেই কম। আবার অনেকেই জেলে থেকে ফিরেছেন খালি ট্রলার নিয়েই।

জেলেরা বলছেন, সাগরে মাছের আকাল চলছে। জাল ফেলেও মিলছে না মাছের দেখা। ফলে ট্রলারে খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় সামান্য মাছ নিয়ে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন ঘাটে।
এফবি মামনি ট্রলারের মালিক মোঃদুলাল কোম্পানি বলেন, গত বছর এই সময় সাগরে মাছ শিকারে গিয়ে ৫ হাজার ইলিশ পেয়েছিলো। কিন্তু গত ১২ দিন সাগরে মাছ শিকার করে মাত্র ৩০০টি ইলিশ। অবশেষে খাদ্য শেষ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে ফিরে এসেছে ঘাটে।
আরেক জেলে মোঃসেলিম হাওলাদার বলেন, ট্রলার মালিক ২ লাখ টাকা খরচ দিয়ে ১৭ জন জেলে দিয়ে সাগরে মাছ শিকারে পাঠিয়েছে। কিন্তু ১৫ দিন সাগরে জাল মেরে সাগরে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। অবশেষে স্বল্প পরিমাণ মাছ পেয়েছিলাম, যা মৎস্য বন্দরে এনে বিক্রি করেছি মাত্র ৪০ হাজার টাকা। ফলে ট্রলার মালিকের লোকসান হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এখন আর ট্রলার মালিক সাগরে পাঠাচ্ছেন না।
এদিকে আলীপুর,মহিপুর মৎস্য বন্দর সব সময় ভরা থাকে সামুদ্রিক মাছে। কিন্তু এখন এই বন্দরেই মাছের আকাল। ফলে মাছের দাম বাড়তি যে কারণে লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে দাবি মৎস্য ব্যবসায়ীদের।
মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃনান্না মল্লিক বলেন,গভীর সমুদ্রে যখন মাছ কম ধরা পড়ে তখন মৎস বন্দর গুলোতে দাম বেড়ে যায়। এখন মাছের পরিমাণ কম তাই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরেক ব্যবসায়ী মোঃছালাউদ্দিন বলেন, একে তো মাছের পরিমাণ কম। তার উপর কঠোর লকডাউন। সবমিলিয়ে মহা বিপদে রয়েছি।
মৎস্য আড়ৎ ব্যবসায়ি মোঃজলিল হাওলাদার (মনি ফিস) বলেন, সমুদ্রে কাঙ্খিত পরিমাণ মাছ না পাওয়ায় জেলেদের দিতে হচ্ছে পরিমানে চেয়েও বেশি দাদোন।চালানি মাছ ব্যবসায়িদের কাছ থেকে পারছেনা টাকা আদায় করতে।মাছ কম হওয়ায় চালনি ব্যবসায়িদের হচ্ছে লোকসান। সব মিলিয়ে আমাদের চিন্তাও দুশ্চিন্তা ও সংকট ময় জীবন কাটছে।