খুলে গেছে অক্সিজেন নল, এগিয়ে আসেনি কেউ!

News News

Desk

প্রকাশিত: ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২১
‘খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। অক্সিজেনের নল খুলে গেছে। আমি মরে যাচ্ছি!’ ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ছেলেকে খুব কষ্ট করে কথাগুলো জানিয়েছিলেন বাবা। ওই ঘটনার পরের দিনই মারা যান করোনা আক্রান্ত সেই বৃদ্ধ। তার পরেই হাসপাতালের কর্মীদের গাফিলতির দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে মৃতের পরিবার।
ভারতে এন আর এস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানে কোভিড ওয়ার্ডে গত সোমবার গভীর রাতে ভর্তি হয়েছিলেন এন্টালির বাসিন্দা স্বপন দাস (৬৮)।
তার ছেলে সোহমের দাবি, বুধবার বিকেল পৌনে ৪টায় বাড়িতে ফোন করেন স্বপন। হাঁপাতে হাঁপাতে তিনি জানান, কোনোভাবে তার অক্সিজেনের নলটি খুলে গিয়েছে। কিন্তু সামনে কেউ নেই। তিনি বারবার অনুরোধ করলেও কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসছেন না। স্বপন আরও জানান, তিনি শৌচাগারে গিয়েও পড়ে গিয়েছিলেন।
বাবার থেকে এমন কথা শোনার পরেই দ্রুত স্বাস্থ্য দফতরের হেল্পলাইনে ফোন করেন সোহম। তিনি বলেন, ‘ফোন করলে ওরা বিষয়টি শুনে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এর পরে আমি হাসপাতালে চলে আসি।’
জানা যায়, স্বাস্থ্য ভবন থেকে হাসপাতালে ফোন আসার পরে কর্তৃপক্ষ লোক পাঠিয়ে দেখে, ঘটনাটি সত্যি। তার পরে হাসপাতালে এসে সোহম দাবি করেন, ‘বাবা মারা গেছেন, না বেঁচে রয়েছেন- সেটুকু জানার অধিকার তো রয়েছে।’ তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভিডিও কল করে কথা বলার অনুমতি দেন।
সোহম জানান, ভিডিও কলে দেখা যায়, প্রায় অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন তার বাবা। একবার তাকালেও একটি কথাও বলতে পারেননি। ওই যুবক বলেন, কোনো অভিযোগ আছে কিনা জিজ্ঞাসা করায় নার্স নিজেই উত্তর দেন, ‘না, নেই।’ তারপরে কেন বাবার কাছে ফোন দিয়েছি, সেই নিয়ে প্রশ্ন করেন আমাকে। কেন ওই বৃদ্ধ রোগীকে ফোন দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মীও সোহমকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টায় মারা যান স্বপন দাস। মোবাইলটি প্রথমে ফেরত দিতে অস্বীকার করেন কর্মীরা। পরে অবশ্য সেটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।