কুয়াকাটায় ৫০ বছরের জলাশয় দিঘীটি হতে যাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন লেক পার্ক

News News

Desk

প্রকাশিত: ৯:০৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২১
মোঃ সাইমুন ইসলাম, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ

কুয়াকাটায় ৫০ বছরের পরে থাকা বদ্ধ জলাশয় দিঘী হতে যাচ্ছে এখন সৌর্ন্দয্য বর্ধনে দৃষ্টি নন্দিত অত্যাধুনিক লেক পার্ক। পর্যটকদের বিনোদনের জন্য বা সময় কাটানো সন্ধ্যার পরে কুয়াকাটায় কোন চিত্তবিনোদনের স্থান না থাকায় এ নিয়ে পর্যটক দের মুখে ছিল আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এসব আলোচনা মাথায় রেখে পৌর সভার নবনির্বাচিত মেয়র আনোয়ার হাওলাদার তাঁর নিজ অর্থায়নে বিনোদনমুখী এ উদ্যোগ নিয়ে পর্যটন শিল্পের ব্যাপক সারা ফেলছে । এখন থেকে কাজ শুরু হয়েছে আগামী পর্যটন মৌসুমের আগেই এটি চালু করা যাবে বলে এমনটাই দাবি কুয়াকাটার পৌর কর্তৃপক্ষর। বর্তমানে মেয়র মহোদয়ের নিজ অর্থায়নে কাজ হলেও পরবর্তীতে এটিকে যে কোন প্রজেক্টে নেওয়া হবে। এতে খরচ হতে পারে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা।
জানা যায়, কুয়াকাটার সৈকতের কোলঘেঁষে বেড়িবাধেঁর বাহিরে ১৯৭০ সালের ভয়াবহ বন্যায় পানির স্রোতে এটি বিশাল দিঘীতে পরিনত হয় এবং প্রায় ৪ একর জায়গা জুড়ে দিঘীটি বদ্ধ জলাসায় রয়ে যায় ৫০ বছর ধরে। সরকারী এ জমিটি অনেক বার পরিস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

নবনির্বাচিত মেয়র দায়িত্বে আসার পরপরই নজরে আসে এই অযত্নে অবহেলায় পরে থাকা এই দিঘীটি। যেটি পর্যটকদের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন ভাবে পরিকল্পনায় এটি অত্যাধুনিক লেক পার্ক তৈরী করার জন্য যা পর্যটক বান্ধব ও বিনোদনপ্রেমী মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বর্তমানে নিজ অর্থায়নে উদ্যোগ নিয়েছেন। যেখানে থাকবে প্যাডেল নৌকা, লেকের চার পাশে বিভিন্ন রঙিন লাইটিং, সৈকতে গোসল করে এসে পর্যটকরা মিস্টি পানিতে গোসল করে ড্রেস চেঞ্জিং রুম, লেকের মাঝে তিনটি গোলাকার ভাসমান ওয়াটার প্রুফ লাইটিং ঝাড় ও মিউজিক লাইট, চারপাশে ৮ ফুট রাস্তার ফাঁকে ফাঁকে থাকবে বসার স্থানসহ লেকে চার পাশেই পরিছন্ন ভাবে তৈরী হবে এই বিনোদন মূখী লেক পার্ক। লেক পার্কের সাথে দু পাশেই ১৬০০ স্কয়ার ফিট পাবলিক টয়লেট ও ড্রেস চেঞ্জিং রুম। কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, গুরুত্বপূর্ন জায়গাটি এতদিন পরিত্যক্ত জলাশায় ডোবা পরে ছিলো মেয়র মহোদয় যে উদ্যোগ নিয়েছে এটাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কুয়াকাটা শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জনি আলমগীর জানান, আমরা বর্তমান মেয়র মহোদয়ের কাজ দেখে বলতে পারি, একজন পর্যটন বান্ধব মেয়র পেয়েছি, কুয়াকাটাতে যে কাজটি সবচেয়ে অনুপস্থিত ছিলো সেটি দ্রত উদ্যোগ নিয়েছে এবং সে সফল হবে আমি বিশ্বাস করি আমরা সবাই তার পাশে আছি ভালো কাজের সাথে।
স্বপ্নের সিড়িতে দাড়িয়ে পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার জানান, ভোটের আগে জনগনকে কথা দিয়ে ছিলাম নির্বাচিত হতে পারলে আপনাদের নিয়ে কাজ করব। পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে থাকা পৌরসভার যতগুলি শূন্য জায়গা রয়েছে জেলাপ্রশাসনের অনুমতি নিয়ে শোভাবর্ধন করে পর্যটকদের বিনোদন পায় সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।

যে লেকটার কাজ করতেছি সেটি সুন্দর একটি নাম দিয়ে শুভ উদ্বোধন করবেন জেলা প্রশাসক মহোদয়। চলমান কজের চেষ্টার ত্রুটি করব না মন দিয়ে করছি বাকি দিন গুলি আল্লাহ উপর ভরসা। আপনারা ও জনগন সহায়তা করলে ইচ্ছে পোষন করছি আগামি পাচ বছর পরিকল্পিতভাবে কাজ করে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে চাই । আগত পর্যটক ও আমার পৌর জনগন যেন কাজের মাঝে আমাকে স্বরণ রাখে। এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার আবুল হাসনাত মোহাম্মাদ শহিদুল হক জানান, মেয়র সাহেব যে উদ্যোগটি নিয়েছে ভালো। সরকার যে কোন ভালো কাজের সহযোগীতায় বদ্ধপরিকর।