‘নারীর স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিলেও যৌন নির্যাতন হবে না’

News News

Desk

প্রকাশিত: ৫:৫১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২১

শরীরের সঙ্গে সংস্পর্শ না হলে সেটি যৌন নির্যাতন নয়। এমনকি পোশাকের ওপর দিয়ে শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিলে শিশু যৌন নির্যাতন ও পর্নগ্রাফি দমন (পকসো) আইনের আওতায় যৌন নির্যাতনের মধ্যে ধরা হবে না। সম্প্রতি এমনই রায় দিয়েছে ভারতের বম্বে হাইকোর্ট।

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম জি নিউজের একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের নাগপুর বেঞ্চের বিচারপতি পুষ্পা গানেদিওয়ালা রায়ে বলেন, ‘কোন নাবালিকার যৌন নির্যাতন প্রমাণ করতে গেলে শারীরিক সংস্পর্শ হয়েছে তার প্রমাণ দিতে হবে। অন্যদিকে, পোশাকের ওপর দিয়ে যদি স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেওয়া হয় তাহলেও সেটি যৌন নির্যাতনের আওতায় পড়বে না।
ভারতের শিশু যৌন নির্যাতন ও পর্নগ্রাফি দমন (পকসো) আইনের ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই রায় দেওয়া হয়েছে। ১২ বছরের একটি কিশোরীর যৌন নির্যাতন নিয়ে শুনানির রায় দিতে গিয়ে এমনই রায় দিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট।
ওই কিশোরীকে বাড়ি থেকে ডেকে তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এক ব্যক্তি। সেই সঙ্গে স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিয়ে তার পোশাক খোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই মুহূর্তে তার মা এসে যাওয়ায় মেয়েটিকে ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্ত। তার নামে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে এফআইআর করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এরপর তাকে বম্বে হাইকোর্ট তোলা হয়। শুনানির রায়ে ভারতের হাইকোর্ট জানায়, পকসো আইনের আওতায় ওই ব্যক্তি দোষী নয়।
তবে, ভারতের ৩৫৪ (শ্লীলতাহানি) ও ৩৪২ (জোর করে আটকে রাখা) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। কারণ এই ঘটনায় নাবালিকার শরীরের স্পর্শ ও শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে এই রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের শিশু অধিকার কর্মীরা। বিচারপতিদের মধ্যেও শোনা গিয়েছে গুঞ্জন। কেউ কেউ বলছে, এমন অদ্ভুত রায় নিজের কর্মজীবনে দেখেননি।
উল্লেখ্য, ‘পকসো আইনের ৭ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে যৌন উদ্দেশ্যে কেউ যদি কোন শিশুর স্পর্শকাতর জায়গা স্পর্শ করে বা শিশুটিকে স্পর্শ করতে বাধ্য করে, বা যৌন উদ্দেশ্যে অন্য যেকোনো কাজ করে যাতে শারীরিক সংযোগ হচ্ছে কিন্তু ধর্ষণের মতো ঘটনা না ঘটে তাহলে তাকে যৌন নির্যাতন হিসেবে গণ্য করা হবে।’