বরিশালে ডিবি পুলিশের নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু

News News

Desk

প্রকাশিত: ৬:৫৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০২১

বরিশাল প্রতিনিধিঃ পুলিশের হেফাজতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যু হাজতির নাম মোঃ রেজাউল করিম রেজা (৩০)। সে বরিশাল নগরীর ২৪ নং সাগরদী এলাকার আঃ হামিদ খান সড়কের বাসিন্দা ও মোঃ ইউনুস মিয়ার ছেলে।

মৃত্যু রেজাউল করিম রেজা সদ্য এলএলবি পাশ করে বরিশালের আদালতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। শনিবার গভীর রাতে তার শীরর থেকে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরনে তিনি মারা যায়।

এদিকে, পুলিশের নির্মম নির্যাতনের পর অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে যুবকটির মৃত্যু হয়েছে বলে তার পরিবারের দাবি।

রেজাউল কমির রেজার পিতা মোঃ ইউনুস মিয়া বলেন, গত ৩১ ডিসেম্বর বরিশাল ডিবি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন তার ছেলেকে থানায় ধরে নিয়ে যায় মাদকসেবী বলে। পরে রেজাকে ডিবি কার্যলয়ে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালায়।

এরপর আর ছেলের খোঁজ পাওয়া যায় নি। শুক্রবার রাতে (১ জানুয়ারী) হাসপাতাল থেকে ফোন করে বলা হয় তার ছেলে প্রিজন সেলে ভর্তি আছেন, তার প্রস্রাবের রাস্তা থেকে অতিরিক্ত রক্ত বেড় হচ্ছে।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রেজাকে দুই ব্যাগ রক্তও দেয়া হয়। অতঃপর রেজা মারা যায়। এসআই মহিউদ্দিনের নির্যাতনের তার ছেলে মারা গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মৃত্যু রেজার ফুপাতো ভাই ও স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মাহফুজ হোসেন বলেন, এসআই মহিউদ্দিনের বাড়ী একই এলাকায়। সে দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় পুলিশের ক্ষমতা দেখিয়ে যাকে তাকে মারধর করে।

৩১ ডিসেম্বর নিরিহ ও ভদ্র যুবক রেজাকে ধরে ওর কাছে সিরিঞ্জ ও প্যাথেডিন পেয়েছে দাবি করে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ডিবি কার্যলয়ে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালায়।

অপরদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে ২৪ নং ওয়ার্ডের স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেছেন। তারা বিষয়টি সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নুরুল ইসলাম বলেন, সুরাতহাল শেষে মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে ঘটনা যাই ঘটুকনা কেন বিষয়টি সুষ্ঠ তদন্ত করা হবে। এ অবস্থায় স্থানীয় জনগনকে কোন বিশৃঙ্খলা সৃস্টি করা যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এই বিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা পু‌লিশের এসআই ম‌হিউ‌দ্দিন আহম্মেদ মা‌হি বলেন, ২৯ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় রেজাউলকে গ্রেফতার করা হয় ১৩৬ গ্রাম গাজা ও ৪ অ্যাম্পুল নেশাজাতীয় ইরজেকশনসহ। ওই‌দিন রাত পৌনে ১২টায় তাকে কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। রাতেই মামলা দায়ের করা হয় এবং পরের দিন আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করে। ওই যুবককে নির্যাতনের অ‌ভিযোগ মিথ্যা। এছাড়া রেজাউলের বিরুদ্ধে আগেও মাদক মামলা ছিলো বলে জানান তিনি।

ব‌রিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সি‌নিয়র জেল সুপার প্রশান্ত ক‌ুমার ব‌নিক জানান, ৩০ ডিসেম্বর এই আসামিকে আমরা রি‌সিভ ক‌রি। ফরওয়া‌র্ডিং কাগজে হাজতির অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হয়। তাছাড়া তার শরীরে ক্ষত ছিলো। পায়ের বাহু থেকে রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভ‌র্তি করা হয়।

ব‌রিশাল শের ই বাংলা মে‌ডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ইনচার্জ হরে কৃষ্ণ সিকদার জানান, রক্তক্ষরন জ‌নিত কারনে ১ জানুয়ারি ৯টা ৩৫ মি‌নিটে পুরুষ সার্জারী ১ ইউ‌নিটে তাকে ভ‌র্তি করে কারা কতৃপক্ষ।

ব‌রিশাল মেট্রোপ‌লিটন পু‌লিশ ক‌মিশনার মো. শাহাবু‌দ্দিন খান বলেন, আমরা নিয়ম অনুযায়ী সুস্থভাবে আসামিকে আদালতে প্রেরণ করে‌ছি। সেখান থেকে তাকে হাজতে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু স্বজনরা অ‌ভিযোগ করেছে সেহেতু বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।এদিকে আজ ৩রা জানুয়ারি পোসমাডাম এরপর রেজাল্ট তাদের বাড়িতে নিয়ে আসলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তার লাশ কে নিয়ে সাগরদী রাস্তা অবরোধ করে দেয় প্রায় এক ঘন্টা রাস্তা অবরোধ থাকার পরে পুলিশের বিভিন্ন করা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিচারের আশ্বাস দিলে রাস্তা ছেড়ে দেয়া হয়।