বিরামপুর সীমান্তে টাকা নিয়ে সংঘর্ষে ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু

News News

Desk

প্রকাশিত: ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০২০

পাওনা টাকার জের ধরে বাংলাদেশ ও ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আলিম উদ্দিন (৪৫) নামে এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় উভয় দেশের চারজন নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বাংলাদেশের দুই ও ভারতীয় দুই নাগরিক রয়েছেন।
নিহত আলিম উদ্দিন ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সীমান্তের জামালপুর গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে।

শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার জামালপুর সীমান্তে ২৮৯/২৫ ও ২৬ এস পিলারের মাঝামাঝি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বর্ডার গার্ড বাংলদেশের (বিজিবি) ভাইগড় কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার শওকত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে ওই এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বিজিবির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে ভারতের ১৯৯ ব্যটালিয়নের কমান্ডার অজয় কুমার তিওয়াড়ী ও বিজিবি ২০ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. আবু নাঈম খন্দকার, ভাইগড় বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার শওকত হোসেন ও দাউদপুর বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার হেলাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় দেশের জড়িতদের তালিকা করে শাস্তির আওতায় আনা ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উভয় দেশের নাগরিকদের শান্ত থাকতে বলা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল তিনটায় বিরামপুর উপজেলার দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক ইসলামের সঙ্গে ভারত সীমান্তের আলিম উদ্দিনের মাদক ব্যবসার পাওনা টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। শুক্রবার ভারতীয় সীমানার শূন্য রেখায় নির্মিত মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে আবারও বাকবিতণ্ডা হয়।

এক পর্যায়ে উভয়পক্ষ দেশি অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আলিম উদ্দিন নামের এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয় এবং উভয়পক্ষের কমপক্ষে চারজন গুরুতর আহত হয়।
আহতরা হলেন, বাংলাদেশ অংশের বিরামপুর উপজেলার ২ নম্বর কাটলা ইউপি সদস্য ও দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের মইনুল ইসলাম (৩৫) ও তার বড়ভাই মমিনুল ইসলাম (৪৫) এবং ভারতীয় অংশের জামালপুর গ্রামের আলম হোসেন ও আছিরুল ইসলাম। পরে আহত মইনুল ইসলাম ও মমিনুল ইসলামকে উদ্ধার করে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেন বলেন, সীমান্তে উভয় দেশের নাগরিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে সেখানে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এ বিষয়ে ২০ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর নাঈম বলেন, সীমান্তে অনাকাঙ্খিত ঘটনায় উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় নতুন করে যেন কোনো ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে বাংলাদেশ অংশে গ্রামবাসীদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।