মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মারধর, গ্রেফতার ২

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মারধর, গ্রেফতার ২

News News

Desk

প্রকাশিত: ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০২০

রাজশাহীর বেসরকারি শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় হাসপাতাল পরিচালকের ছোটভাই ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে একজনকে।

রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার ওসি সিরাজুম মুনির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হামলায় সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবিতে শনিবার  ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা মেডিকেল ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

এ সময় তারা মারধরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।

সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালটির পরিচালক শিক্ষার্থীদের অন্য মেডিকেল কলেজে মাইগ্রেশন করতে দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে শনিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে যান।

ধর্মঘট

মূলত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ওই হাসপাতালটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনার সংশোধিত নীতিমালা-২০১১ এর শর্ত অমান্য করায় ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি না করার ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

দোশরা নভেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। তারপরই মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

ওই চিঠিতে আরও বলা হয় যেন শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অন্য বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে মাইগ্রেশন অর্থাৎ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

মন্ত্রণালয় থেকে এমন নির্দেশনা আসায় শিক্ষার্থীরা একে সাধুবাদ জানায়।

ওই মেডিকেল কলেজটি নিবন্ধিত না হওয়া সেইসঙ্গে যথাযথ মেডিকেল শিক্ষার পরিবেশ না থাকায় অনেক আগে থেকেই মাইগ্রেশনের দাবিতে এই শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছিল।

কিন্তু সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালটির পরিচালক নানা অজুহাতে মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া থামিয়ে রেখেছিল বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

এমন অবস্থায় শনিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা হাসপাতাল পরিদর্শনে আসতে পারেন এমন খবর পেয়ে তাদের সামনে মেডিকেল কলেজের সব অনিয়মের কথা তুলে ধরার প্রস্তুতি নেয় শিক্ষার্থীরা।

এজন্য দূরবর্তী শহরে থাকা অনেক শিক্ষার্থী শুক্রবার রাজশাহীতে চলে আসেন।

তাদের মধ্যে কয়েকজন বিকেলে হোস্টেল থেকে তাদের শীতের কাপড় ও মালামাল নিতে গেলে হামলার শিকার হন।

মেডিকেল কলেজের পরিচালক ও তার ভাড়াটে লোকজন শিক্ষার্থীদের বেধড়ক পেটায় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। তাদের লাঠির আঘাতে অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী আহত হন।

সূত্র: বিবিসি