‘কোনও অর্বাচীনের কথায় বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য নির্মাণকাজ বন্ধ হবে না’

News News

Desk

প্রকাশিত: ১১:৩১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০২০

কোনও অর্বাচীনের কথায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণকাজ বন্ধ করা হবে না বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। বুধবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের ভিআইপি জেটিতে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

এ বিষয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, সারাদেশে জাতির জনকের অসংখ্য ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। পথেঘাটে কে কি বলল, তা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কোনও কারণ নেই। বর্তমান সরকার যে কথা বলে তা বাস্তবায়ন করার সক্ষমতা নিয়েই বলে।
এর আগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বন্দর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে নোঙর করা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত যুদ্ধজাহাজ এম ভি আকরাম সংরক্ষণের ব্যাপারে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ডোরা চাঁদপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে পাক সেনাদের অস্ত্র মজুতকৃত এমভি আকরাম জাহাজটি ডুবিয়ে দিয়েছিল। এটি মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি বড় নিদর্শন। এটি সংরক্ষণ করার জন্য ছয়টি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে দুটি জায়গার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। একটি মাদারীপুর বিআইডব্লিউটিএর ট্রেনিং সেন্টার পাশে এবং অপরটি চাঁদপুর নতুন পোর্টের পাশে।
মন্ত্রী জানান, গঠিত কমিটি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন পেশ করার পর যে স্থানটি জনবহুল ও দর্শনীয় বলে বিবেচিত হবে সেখানে জাহাজটি রেখে সংরক্ষণ করা হবে। এর জন্য যে পরিমাণ অর্থ চাহিদা দেওয়া হবে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সেটি সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ এনে জাহাজটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করবে। জাহাজটির সৌন্দর্যবর্ধনে প্রয়োজনে বিদেশি স্থপতি প্রকৌশলীদের পরামর্শ নেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী মোজাম্মেল হক।
জাহাজটি পরিদর্শনের সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাউদ্দিন, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সেলিম রেজা ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিকসহ অন্য কর্মকর্তারা।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় মেঘনা নদীতে নৌ-কমান্ডোরা পাক সেনাদের যুদ্ধজাহাজ এমভি অকরাম ডুবিয়ে দেয়। পরবর্তীতে জাহাজটি সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।