কলকাতায় পূজা উদ্বোধন: সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়কটের মুখে সাকিব

কলকাতায় পূজা উদ্বোধন: সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়কটের মুখে সাকিব

News News

Desk

প্রকাশিত: ১:৫১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০২০

কলকাতায় শ্যামা পূজার উদ্বোধন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোপের মুখে পড়েছেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফিতা কেটে ও প্রদীপ জ্বালিয়ে পূর্ব কলকাতার কাঁকুড়গাছি ‘আমরা সবাই ক্লাব’এর ৫৯তম শ্যামা পূজার উদ্বোধন করেন অন্যতম বিশ্ব সেরা এই অলরাউন্ডার। এনিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

অসংখ্য ভক্ত সাকিবের এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ তাকে বয়কটেরও ডাক দিয়েছেন। সব মিলিয়ে আজ নেট দুনিয়ায় হট টপিকসে পরিণত হয় সাকিবের পূজা উদ্বোধনের সংবাদটি। হজ পালন করা একজন মুসলিম হয়ে তার ওই বিতর্কিত কাজে যোগ দেয়ায় প্রতিবাদে ফেটে পড়েন ভক্তরা। ক্ষোভ আর নিন্দার ঝড় তোলেন সামাজিক মাধ্যমে।

ফেসবুকে সাইফুল চৌধুরী লিখেছেন, ‘‘হাশিম আমলা, মইন আলীরা কিন্তু মদ কোম্পানির লগো জার্সিতে ব্যবহার না করে জরিমানা দিতেও পিছপা হন নি। কারণ উঁনারা মুসলমান। সাকিব ভাই আপনি পুজো উদ্ভোধন করতে পারেন না, আপনি মুসলিম আর আমাদের ইসলামে মূর্তি পূজা করা বা সমর্থন করা শিরক। সম্মান দেওয়ার মালিক আল্লাহ। আপনি কিন্তু একজন সম্মানিত হাজীও বটে। আপনার এই কাজের জন্য তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’’

মোঃ রইস উদ্দীন লিখেছেন, ‘‘এ কাজটি করার জন্য ওদের বিরাট কোহলি, সচিন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি ছিল। এরা কি আপনার চেয়ে কম?- এরা অনেক বড় ক্রিকেটার। কিন্তু এদের দিয়ে না করিয়ে আপনাকে এরকম একটা শিরেকি কাজ করালো আপনি হাজি হয়ে বুঝলেন না। মনে রাখবেন আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা যেমন সম্মান দিতে জানেন তেমন কেড়ে নিতেও জানেন। ধিক আপনাকে।’’

অনিক খান লিখেছেন, ‘‘চৌদ্দশত বছর আগে করা রাসুলের (স.) ভবিষ্যৎ বাণীর বাস্তবতা আজ স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছি।…নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘আমি সবচেয়ে যাদের বেশি ভয় করি তারা হচ্ছে নেতা ও এক শ্রেণীর আলেম সমাজ। অচিরেই আমার উম্মতের কিছু লোক মূর্তিপূজা করবে। আর অতি শীঘ্রই আমার উম্মতের কিছু লোক হিন্দু বা বিজাতিদের সাথে মিশে যাবে’ (ইবনে মাজাহ হা/৩৯৫২, হাদীছ ছহীহ)। অথচ আল্লাহ তায়ালা মূর্তি পূজাকে হারাম করেছেন মূর্তি পূজারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে নিষেধ করেছেন এবং মুশরিকদের জন্য জাহান্নামের ফয়সালা করেছেন।’’

সৌকত হায়াত খান লিখেছেন, ‘‘সাকিব আল হাসানের কাছে এমন একটি ঘৃণিত কাজ বাংলাদেশের একজন মানুষেও প্রত্যাশা করতে পারে নাই, এই কাজটাকে কি বলে ঘৃণা করব বোঝতে পারছি না, সাকিব কতটুকু আত্মপ্রত্যয়ী অহংকারী হলে এই কাজটা ১৬ কোটি মুসলমানের বুকে আঘাত করে খঞ্জর বসিয়েছে। এই কাজটা সে করতে পারে! ধিক্কার জানাই সাকিবের মত দুষ্কৃতিকারীদের। ওকে আজ থেকে আমার হৃদয়ের মনিকোঠায় থেকে একদম বের করে দিলাম, নাউজুবিল্লাহ।’’

আশিকুর রহমান লিখেছেন, ‘‘সাকিব আল হাসান পুজাতে যাবে কেন? এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন! কলকাতার একটা কালীপূজা উদ্বোধনে সাকিব, কেন ভাই? ভারতের ক্রিকেটারেরা কি মরে গেছে? দুনিয়াতে হিন্দু ক্রিকেটারেরা কি সব মঙ্গল গ্রহে গেছে? ধরুন, ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলীকে ৫০০ কোটি টাকা যদি দেই, তাইলে কি ও বাংলাদেশে কোরবানীর ঈদের গরু জবেহ স্থান উদ্বোধন করবে? অবশ্যই না! তাইলে সাকিব কেন গেলো?.একজন মুসলিম ক্রিকেটার সে, হজ্ব করেছে সে। পুজা উদ্বোধক হওয়াটা কি তার জন্য শোভা পায়? একটা শিরক এটেন্ড করা গর্হিত অপরাধ। আর মুসলিম হিসেবে এটা মানা যায়না।…’’

এইচএম আব্দুল হামিদ লিখেছেন, ‘‘হাজী সাহেব ইন্ডিয়া গিয়ে মন্দির উদ্বোধন করেন, যেখানে ইন্ডিয়া ফ্রান্সকে সহযোগিতা করে। আর নিজের দেশের ভক্তের ফোন ছুরে মারো আর ইন্ডিয়া গিয়ে ছবি তুলতে ভুল করল না। এমনটা আশা করা যায় না। ইসলামের স্বার্থে আঘাত পড়লে সাকিবকেও বয়কট করব ইনশাআল্লাহ।’’

মোহাম্মাদ অহিদুজ্জামান লিখেছেন, ‘‘বাহ! জীবনে শুনলাম না বা দেখালাম না যে হিন্দুরা মসজিদ কিংবা মুসলমানদের কোনো ধর্মীয় কিছুতে আসতে কিংবা সহায়তা করতে। আমরা মুসলমরা যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছি, আজকে মুসলমানদের এই সকল কর্মের কারণেই মুসলমান প্রতি পদে পদে মার খাচ্ছে। আল্লাহ সকল মুসলিম ভাইদের হেদায়েত দান করুন। আমিন।’’

নোমান লিখেছেন, ‘‘সাকিব, ঈমানের থেকে কি টাকার মুল্য বেশি হয়ে গেলো আপনার কাছে? একজন মুসলমান হয়ে যা করলেন তা শিরকের পর্যায়েই পরে। আর সম্প্রীতির ধোয়া তুইলেন না, কারণ যার ঈমান নাই মহান রবের নিকটে তার কোন মূল্য নাই।’’

শাহাদাত হুসাইন লিখেছেন, ‘‘অল্প কয়দিনের মধ্যে ও বেশকিছু মন্দ কাজ করে ফেলছে প্রথমত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে কোয়ারেন্টিন না মেনে গুলশানে একটি ভবনের উদ্বোধন করতে যাওয়া। দ্বিতীয়তঃ সেলফি তুলতে যাওয়ায় এক ভক্তের মোবাইল ছুঁড়ে মেরে ভেঙ্গে ফেলা তৃতীয়তঃ একজন মুসলমান হয়ে কলকাতায় গিয়ে শ্যামা পূজার উদ্বোধন করা।’’

মোঃ জাবের লিখেছেন, ‘যারা যারা এটাকে সমথর্ন করতেছেন তাদের উদেশ্যে বলতে চাই যদি বিরাট কোহলি বা রোহিত শর্মাকে এনে আমাদের কোরবানি ঈদের সময় গরু জবাই এর উদ্বোধন করা হয় তখন আপনাদের মতামত কি হবে?’’

 

সূত্র – ইনকিলাব