শিবচরের মা ইলিশ রক্ষায় পুলিশের প্রশংসনীয় ভূমিকা, ৪২৫ জেলেকে সাজা

News News

Desk

প্রকাশিত: ১০:৩৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০২০
রোমান জমাদ্দার, মাদারীপুর প্রতিনিধি :

১৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে গত ৪ নভেম্বর শেষ হলো ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা। এই ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় মাদারীপুরের শিবচরের পদ্মানদীতে ছিল ২৪ ঘন্টার অভিযান। একাধিক টিমে বিভক্ত হয়ে পরিচালিত হয়েছে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান। শিবচর থানার পুলিশ কর্মকর্তা ও নৌপুলিশ প্রতিটি অভিযানে কঠোর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও পদ্মা সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর প্রবেশপথ ও চর এলাকায় প্রতিনিয়ত ছিল শিবচর থানা পুলিশের টহল ও ঝটিকা অভিযান। এতে করে অন্যান্য বছরের মতো এ বছর সস্তায় ইলিশ কিনতে তেমন একটা ভীড় করতে পারেনি সাধারণ ক্রেতারা। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর মা ইলিশ রক্ষায় শিবচর থানা পুলিশের কঠোর অবস্থান ছিল প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেন পদ্মাপাড়ের সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশসহ শিবচর থানা পুলিশের ৪৫ জন কর্মকর্তা ২৪ ঘন্টা পদ্মায় অভিযানে অংশ নিয়েছে। এছাড়াও ইলিশ বিক্রির স্থানসহ সম্ভাব্য স্থানসমূহে পুলিশের একাধিক টিমের টহল ছিল।

পদ্মার তীর সংলগ্ন এলাকাবাসী জানান,অন্যান্য বছর ইলিশেন নিষিদ্ধ মৌসুমে অসাধু জেলেরা গোপনে পদ্মানদী থেকে ইলিশ ধরতো। তীরে এনে সস্তায় এসব ইলিশ বিক্রি করতো। বিভিন্ন স্থান থেকে শতশত মানুষ পদ্মার পাড়ে আসতো সস্তায় ইলিশ কিনতে। কিন্তু চলতি বছর প্রশাসনের তৎপরতায় এই চিত্র অনেকটাই ভিন্ন দেখা গেছে এ বছর। পদ্মায় প্রশাসনের অভিযান ছিল রাতদিন। এবং ইলিশ বিক্রির সম্ভাব্যস্থানগুলোতে পুলিশের টহল ছিল। পদ্মারপাড়ে আসা-যাওয়ার রাস্তাতেও ছিল পুলিশের চেকপোস্ট। এতে করে এবার ইলিশ ক্রেতা সাধারণ মানুষের তৎপরতা কম ছিল। জেলেরাও পদ্মায় খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি।

শিবচর থানা সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ রক্ষায় শিবচর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ এর কঠোর নির্দেশনা ছিল পুলিশ সদস্যদের প্রতি। নিষিদ্ধ মৌসুমে কোন পুলিশ সদস্যই ইলিশ সংগ্রহে উৎসাহ দেখায় নি। কঠোর অবস্থানে থেকে মা ইলিশ রক্ষায় কাজ করে গেছেন। মা ইলিশ রক্ষায় পদ্মানদীতে ২৪ ঘন্টা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ সময় জেলা প্রশাসন, আকাশপথে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার, মৎস্য অফিস, র‌্যাব, থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশের সমন্বিত অভিযানে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীতে রাত দিন অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ১১৬টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। ৪২৫ জন জেলেকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান, ৪ কোটি ৩৭ লাখ বিশ হাজার টাকা মূল্যের ১৭ লাখ ৯১ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। ৫০০টি মামলা হয়েছে। ৪৭০ কেজি ইলিশ ও অন্যান্য ২০ কেজি মাছ উদ্ধার করা হয়। জরিমানা আদায় করা হয় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন,’চীফ হুইপ মহোদয়ের কঠোর নির্দেশনা ছিল মা ইলিশ রক্ষায়। পুলিশ সুপার স্যারের নানা পরামর্শ ও পরিকল্পনায় মা ইলিশ রক্ষায় শিবচর থানা পুলিশ গত ২২ দিন কঠোর অবস্থানে থেকে কাজ করে গেছে। ২৪ ঘন্টা আমাদের তৎপরতার কারণে এ বছর অসাধু জেলেরা মা ধরার তেমন একটা সুযোগ পায় নি। এ বছর যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদের বেশির ভাগকেই কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।’

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন মা ইলিশ রক্ষায় শিবচর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ এর নেতৃত্বে পুলিশের টিম এবং প্রশাসনের যে তৎপরতা ছিল আগামী দুই/এক বছর এমনটা হলে প্রচুর ইলিশে ভরে উঠবে পদ্মা!