মাদক আসর থেকে রক্ষা পেল মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

News News

Desk

প্রকাশিত: ৫:৩৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২০

স্বাস্থ্য সেবার পরিবর্তে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ দিন যাবত চলে আসছিল মাদক সেবা।আর এই মাদক সেবা দেওয়ার জন্য হাসপাতালের ভিতরেই নিজের অফিস কক্ষে মাদকের রমরমা ব্যবসা বসিয়েছিলেন এই হাসপাতালের পরিস্ংখ্যানবিদ আবদুল্লাহ আল মামুন।সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই পাখির নীড়ে ফেরার মত হাসপাতালে মামুনের অফিস কক্ষের তালা খুলে যায় আর এলাকার বিভিন্ন চিহ্নিত মাদক সেবিরা একের পর আসতে থাকে মামুনের মাদকের খাস কামরায়।এখানে গাঁজা , ফেন্সিডিল ইয়াবা, হিরোইন সহ নানা রকম মাদকের নেশায় সারারাত নেশাগ্রস্থ হয় থাকে মামুনসহ মাদক সেবিরা।এই মাদক সেবা দিয়েই রাতারাতি মামুন এলাকার এক প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং হাসপাতালের এক অঘোষিত ডনে পরিণত হয় ।তখন থেকে তার নানারকম অত্যাচার ও চাদাবাজিতে হাসপাতালের চিকিৎসক সহ বিভিন্ন কর্মচারীগণ অতিষ্ঠ হয় উঠেছেন।চাদা চেয়ে চাদা না পাওয়ার কারণে অফিস ক্যাশয়ার মোঃ মহসিন মিয়াকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন।জুনিয়র মেকানিক দেলোয়ার হোসেনকে ও প্রতিমাসে চাদা না দেওয়ায় তাঁকেও শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয় এবং তিনি মামুনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।মামুনের বহিস্কার ও বদলি চেয়ে বহুবার হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ কর্মবিরতি ও মানব বন্ধন করেছেন কিন্তু বিগত উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তারা মামুনের ভয়ে বদলি তো দূরের কথা উল্টো তার অত্যাচার ও জীবন নাশের হুমকিতে সব অত্যাচার মুখবুজে সহ্য করেছেন ।এরপরও মামুন তার অপকর্ম বন্ধ রাখেন নি। হাসপাতালের কর্মচারীদের বিভিন্ন ট্রেনিং এর টাকা মামুন আত্মসাৎ করলে সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রতিবাদ করলে তাঁকেও লাঞ্ছিত করেন ।বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক এর মেরামতের টাকা ক্লিনিক মেরামত না করে নিজেই সব টাকা আত্মসাৎ করেছেন।দিনের পর দিন এভাবে মামুনের মাদক ব্যবসার ডালপালা পুরো মেহেন্দিগঞ্জ জুড়ে ছড়িয়ে যায়।এই মাদক ব্যবসায় তার অন্যতম ব্যবসায়িক পার্টনার হচ্ছে ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মশিউর রহমান নাদিম যিনি নিজেও সন্ধ্যার পর মামুনের মাদক আসরে এসে মাদক সেবন করে সারা রাত জুয়ার আসর বসান ,সাথে চলে নানা রকম অসামাজিক কর্মকাণ্ড । এলাকার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নাদিম কমিশনার বর্তমান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও নামে বেনামে হুমকি দিয়ে ২০১৯-২০ সালের এমএসআর টেন্ডার অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন কিন্তু দ্য: রমিজ আহমেদ অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে স্বচ্ছ ও সুন্দর ভাবে সকল নিয়ম মেনে এমএসআর টেন্ডার এর কাজ সম্পন্ন করেন।আগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: নাজমুল আহসান সিভিল সার্জন অফিসে মামুনের বিরুদ্ধে অনেক গুলো অভিযোগ দিলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কিন্তু বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা: রমিজ আহমেদ আসার পর তার একের পর এক সফল কর্মকান্ডে অলৌকিকভাবে পাল্টে যায় হাসপাতালের পুরাতন দৃশ্যপট।মামুনের বিরুদ্ধে ৭ টি অভিযোগ সিভিল সার্জন অফিসে দাখিল করলে দ্রুত তাঁকে প্রশাসনিক কারনে বানারিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়।মামুনের বদলির পর হাসপাতালে বন্ধ হয় যায় দীর্ঘ দিন ধরে চলা তার রমরমা মাদক ব্যবসা।আর এতে এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বর্তমান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: রমিজ আহমেদ শত্রুতে পরিনত হন।আর তার ভাব মুর্তি খুন্ন করার জন্য তারা বিভিন্ন সংবাদ পত্রে মিথ্যা সাংবাদ প্রকাশ করে। কিন্তু বর্তমান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সব বাধা আর ভয়কে উপেক্ষা করে একের পর এক হাসপাতালের উন্নয়ন করে চলেছেন। মামুন নাদিমগ্ং মেঘনা ডায়াগষ্টিক নামে একটি ভুয়া ডায়াগনষ্টিক চালু করে হাসপাতালে দালাল সিন্ডিকেট বানিয়ে চিকিৎসকদের ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করেছেন।আর এই ডায়াগনষ্টিক এর ভিতরেও চলত মাদক সেবন।বর্তমান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সক্রিয় উদ্যগে সেটি সিভিল সার্জন অফিস নোটিশ দিয়ে বন্ধ করে দেন।মামুনের অন্যত বদলি ও হাসপাতালে মাদক সেবন সহ অন্যান্য অপকর্ম বন্ধ হওয়ার কারনে হাসপাতালের চিকিৎসকসহ অন্যান্য কর্মচারীগণ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন এবং এলাকবাসিও সব ধরনের স্বাস্থ্য সেবা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।