যমুনার ভাঙ্গনে দিশেহারা সিরাজগঞ্জের নদী পাড়ের মানুষ

যমুনার ভাঙ্গনে দিশেহারা সিরাজগঞ্জের নদী পাড়ের মানুষ

News News

Desk

প্রকাশিত: ৩:৫৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২০
এসএমএ কামাল পারভেজ, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

চলমান নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলাধীন শাহজাদপুর উপজেলার এনায়েতপুর থানার যমুনা পাড়ের পাঁচটি গ্রামের মানুষ। জেলার শিক্ষা, চিকিৎসা ও তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ শাহজাদপুর উপজেলার এনায়েতপুর থানার পাঁচটি গ্রাম গত পাঁচ বছর ধরেই ভাঙ্গনের শিকার।

চলতি বছর দীর্ঘ সময় বন্যা ও দফায় দফায় নদীর পানি বাড়া-কমার কারণে ভাঙ্গনের তীব্রতাও অনেক বেশি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর’২০ইং) খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এনায়েতপুর থানার ব্রাহ্মনগ্রাম-আড়কান্দি থেকে পাঁচিল পর্যন্ত যমুনা তীরবর্তী প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে জালালপুর ও খুকনী ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম, পাকুরতলা, আরকান্দি, বাঐখোলা, ঘাটাবাড়ি, ভেকা, পুটিপাড়া, জালালপুরসহ ১০টি গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর এবং কয়েকশ’ বিঘা ফসলের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এদিকে ভাঙ্গন থেকে রক্ষায় স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়দের উদ্যোগে মানববন্ধন হয়েছে।
মানববন্ধনে খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়, এনায়েতপুর কাপড়ের হাট, খাজা এনায়েতপুরী (রঃ) মাজার রাস্তাঘাটসহ বহু মানুষের বাড়িঘর রক্ষার্থে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয়।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, পাঁচ বছর ধরে এনায়েতপুরের দক্ষিণাঞ্চলে যমুনার ভাঙন চলছে।এরই মধ্যে কয়েক হাজার বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তাঁত কারখানা, রাস্তাঘাট ও ফসলের জমি বিলীন হয়েছে। এতদিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধু বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েই আসছে। এখনও বাঁধ নির্মাণের কোনো উদ্যোগই চোখে পড়ছে না।

ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ বলেন, চলতি বছর টানা পাঁচ মাস ধরে যমুনার পানি কমা-বাড়া চলছে। এরই মধ্যে কয়েক দফা ভাঙ্গনে অসংখ্য বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। আর কত বাড়িঘর নদীর পেটে গেলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হবে?

সমাজসেবক প্রদীপ চৌধুরী বলেন, যমুনায় পানি কমতে শুরু করায় প্রচণ্ড স্রোতের কারণে প্রতিদিনই নদীতে বিলীন হচ্ছে বহু মানুষের বাড়িঘর। কয়েকদিন ধরে ভাঙ্গনের তীব্রতা এতই বেশি যে এক সপ্তাহে শতাধিক বাড়িঘর যমুনার পেটে গেছে।

বন্যার পানি কমতে শুরু করায় গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে। এতে এ এলাকার মানুষগুলো অসহায় অবস্থায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অব্যাহত ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামোর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রায় সাড়ে ছয়শ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্প পাস হলেই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হবে।