কুমিল্লার চান্দিনায় স্কুলশিক্ষিকা সৎমায়ের ধারাবাহিক নির্যাতনে কিশোরী মানসিক ভারসাম্যহীন

News News

Desk

প্রকাশিত: ৬:৩৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২০

কুমিল্লার চান্দিনায় স্কুলশিক্ষিকা সৎমায়ের ধারাবাহিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে তিথি (১৫) নামের এক কিশোরী। চলতি বছরের শুরুর দিকে বাবা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে কারাগারে থাকায় চান্দিনার ভাড়া বাসায় প্রতিনিয়ত তিথিকে নির্যাতন করতেন সৎমা।

পার্শ্ববর্তী দেবীদ্বার উপজেলার বরকামতা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য জামাল হোসেন এর মেয়ে ইসরাত জাহান তিথি। সে শরীরে অসংখ্য ক্ষত নিয়ে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। বিষয়টি গনমাধ্যম কর্মীদের নজরে আসার সাথে সাথেই গা ঢাকা দেয় সৎমা মাহমুদা সুলতানা লাভলী। তিনি দেবীদ্বার উপজেলার প্রেমু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক।

এ ঘটনায় তিথির খালু সামছুল হক ভূঁইয়া বাদী হয়ে গতকাল সোমবার রাত ১টায় চান্দিনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জামাল হোসেনের প্রথম স্ত্রী আমেনা খাতুনের মৃত্যুর পর ২০১৭ সালে স্কুলশিক্ষিকা লাভলীকে বিয়ে করে চান্দিনায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাগারে যায় জামাল হোসেন। বাবা কারাগারে থাকায় তিথি এবং মুছা সৎমায়ের সাথে বসবাস করছিল। পিতার অবর্তমানে তুচ্ছ বিষয়ে তিথির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে সৎমা লাভলী। কথায় কথায় মারধর, দেয়ালের সাথে ধাক্কা, খুন্তির ছ্যাঁকাসহ নানা শারীরিক, মানসিক ও অমানবিক নির্যাতন চলে তার ওপর।

১ অক্টোবর কাজ করতে না পারার অযুহাতে তিথিকে বেধরক পিটিয়ে গায়ে খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেয় সৎমা। এতে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে তিথি। পরদিন তিথির খালু সামছুল হক ভূঁইয়া এসে চান্দিনার রূপনগরের ভাড়া বাসা থেকে তিথিকে নিজের বাসায় নিয়ে যায়। পরে গতকাল খালাতো বোন তিথির শরীরে ক্ষতর চিহ্ন দেখে হাসপাতালে ভর্তি করে।

এদিকে খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আজিজুল ইসলাম তিথিকে উদ্ধার করে বর্তমান ঠিকানা অনুযায়ী চান্দিনা থানায় নিয়ে যান।

তিথির খালাতো ভাই নাছিমুল হাসান ভূইয়া বলেন, তিথিকে এভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা জানতাম না। আমরা তিথিকে আমাদের বাসায় আনার পর আমরা বিষয়টা জানতে পারি।

তিথির চাচি বরকামতা জাগরনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রওশন আরা আক্তার জানান, আমার কাছে থাকা অবস্থায়ও সে সুস্থ ছিল। কিন্তু গত ৮-৯ মাসের নির্যাতনে সে সম্পূর্ণ মানসিন ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সৎ মা মাহমুদা সুলতানা লাভলী পলাতক থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

চান্দিনা থানার ওসি শামসউদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, আহত তিথিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় শিশু নির্যাতন দমন আইনে চান্দিনা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিথির সৎমাকে গ্রেপ্তার করতে তাদের চান্দিনার বাসায় অভিযান চালালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে যায়। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।