দায়িত্ব নিয়ে যা বললেন নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল

News News

Desk

প্রকাশিত: ১১:৫৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২০

অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে রাষ্ট্রীয় সব দায়িত্ব নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন ১৪তম অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। আজ রোববার দুপুরে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রথম কর্মদিবসে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন।

এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘দক্ষতা ও সততায় মাহবুবে আলম এ অফিসটাকে, পদটাকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, আমি চেষ্টা করব সেটা বজায় রাখার। আমি চেষ্টা করব তিনি যে উচ্চতা সৃষ্টি করে গেছেন, সেটা  ধরে রাখার।’

অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আপনাদের সহযোগিতা চাই। আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, আপনারা যদি আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন তাহলে দুর্নীতি বন্ধ করা অনেক সহজ হবে। আমি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে যেকোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করব।’

অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে প্রথম কর্মদিবসে দুজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগে অসুবিধার সৃষ্টি হবে কি না, জানতে চাইলে আমিন উদ্দিন বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে সবসময় আসা-যাওয়া থাকেই। ওনারা হয়তো অনেক দিন কাজ করেছেন, ব্যক্তিগত কোনো সমস্যার কারণে তাঁরা হয়ত আর থাকছেন না। আমার সঙ্গে ওনাদের কথা হয়নি। এখন যদি তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয় তাহলে অবশ্যই আরো দুজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেবে সরকার।’

নারী শিশু নির্যাতন মামলার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘নারী শিশু নির্যাতনের কথা যদি বলেন, সরকার কিন্তু আগামীকালই বিষয়টা ক্যাবিনেট মিটিংয়ে তুলবে। শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করে দেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুদণ্ড করার পরে আমার মনে হয় যারা এ ধরনের অপরাধ করে তারা সাবধান হবে। এ অপরাধ করতে অনেকবার ভাববে। আমার মনে হয় সরকারের এ উদ্যোগটা যখন আইনে পরিণত হবে তখন কিন্তু এ ধরনের ঘটনা অনেকখানি কমে যাবে।’

মামলার জটকে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে আমিন উদ্দিন বলেন, ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মামলা জট কমানো। আমাদের দেশে অনেক মামলা রয়ে গেছে, অনেক মামলা জট হয়ে আছে। এ জট কমানো হচ্ছে বিচার বিভাগে আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ।’

নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল কোর্ট প্রায় চার হাজার মামলা নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। আপিল বিভাগ কিন্তু পুরোনো মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল এবং আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে আমি প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করব, হাইকোর্টেও যেসব পুরোনো মামলা রয়েছে, সেগুলো নিষ্পত্তি করার জন্য বেঞ্চগুলোকে যেন বিশেষ নির্দেশনা দেন।’

‘তা ছাড়া আমি চেষ্টা করব, বিভিন্ন জেলায় যারা পাবলিক প্রসিকিউটর রয়েছেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিচারাধীন যেসব মামলা স্থগিত হয়ে আছে, সেগুলোর দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিতে।’

ষোড়শ সংশোধনীর মামলা রিভিউ নিষ্পত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘রিভিউ যেহেতু আপিল বিভাগে পেন্ডিং রয়েছে, তারা যে দিন তারিখ ধার্য করবেন, শুনানির জন্য এলে আমি চেষ্টা করব দ্রুত শেষ করার জন্য।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে আমিন উদ্দিন বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের অদক্ষতার কারণে কোনো মামলায় যদি রাষ্ট্র হেরে যায়, আর তাতে যদি রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় সেক্ষেত্রে বিষয়টি আমি সরকারের দৃষ্টিতে নিয়ে আসব। সরকার তখন সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন আপনি। এখন দুটি দায়িত্ব কিভাবে পালন করবেন? জানতে চাইলে আমিন উদ্দিন বলেন, ‘বারের যেকোনো সদস্য বারের সভাপতি হতে পারেন। সে হিসেবে দুটি দায়িত্ব পালনে কোনো সমস্যা নেই।’

গত ২৭ সেপ্টেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার পদ শূন্য হয়। গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিনকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।