ইউএনও’র গাড়িতে হামলার ঘটনায় ১০০জনের বিরুদ্ধে মামলা: গ্রেফতার-৮

News News

Desk

প্রকাশিত: ৫:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২০
রেজওয়ানুল ইসলাম ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি :

বগুড়ায় অভিযান চলাকালীন ইউএনও’র গাড়িতে হামলার ঘটনায় থানায় ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা; গ্রেফতার ৮।

বগুড়ার শেরপুরে বালু মহালে অভিযানের সময় ইউএনও’র গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।মামলায় ১৪ জনের নাম সহ প্রায় ৮০-৮৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়।

গতকাল শনিবার (৩ অক্টোবর) ইউএনও মো. লিয়াকত আলী সেখ অভিযান পরিচালনার এসময় এ হামলার শিকার হন। ঘটনার রাতেই বালুদস্যুদের ভাড়াটে লোকজনের মারপিটে আহত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের নৈশপ্রহরী মো. মনজুরুল হক বাচ্চু বাদি হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে আটজনকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের গজারিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের মেহের আলীর ছেলে মো. ফরহাদ হোসেন (২৬), একই গ্রামের জাফর প্রামাণিকের ছেলে মো. আলম প্রামাণিক (৩৫), তোজাম প্রামাণিকের ছেলে ইব্রাহীম হোসেন (২০), আজিজার রহমানের ছেলে মো. ওসমান গণি (২৮), গোলাম প্রামাণিকের ছেলে মো. শাহিন শাহ (২০), গোলাম নবীর ছেলে মো. মেহেদী হাসান (২৫), পাশের নলডেঙ্গী গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে মো. রুবেল হাসান (৩০) ও একই গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে ফরহাদ হোসেন (২৭)। এছাড়া মামলায় নামীয় অভিযুক্তরা হলেন- গজারিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে মো. হানিফ (৪০), তার ভাই মোতালেব হোসেন (৪২), একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. রাজু (২৫), নলডেঙ্গী গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে মো. মিলন (২৫), ওই গ্রামের মো. হায়দার আলী (৩০), আবু মুসা (২৫) ও জাবেদ আলী (৩০)।

শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলায় অভিযুক্ত অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে। এছাড়া গ্রেফতার ব্যক্তিদের রবিবার দুপুরের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ তার দফতর ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের নিয়ে শেরুয়া বটতলাসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। একপর্যায়ে উপজেলার খানপুর ও খামারকান্দি ইউনিয়নের গজারিয়া বড়ইতলী, নবীনগর ও নলডেঙ্গী এলাকায় বাঙালি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পান। পরে সেখানে অভিযান চালান। অভিযানকালে নলডেঙ্গি গ্রামে বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম দেখতে পান। এরমধ্যে ৫০০ মিটার প্লাষ্টিকের পাইপ ও ড্রেজিং মেশিন লাগানো ছিল। পরে অভিযানের নেতৃত্বে থাকা ইউএনও মো. লিয়াকত আলী সেখ সেইসব সরঞ্জাম খুলে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। কিন্তু কতিপয় স্থানীয় বালুদস্যু এতে অস্বীকৃতি জানান। পাশাপাশি ইউএনও’র সঙ্গে বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়েন তারা। এমনকি ওইসব এলাকার অনুমান প্রায় একশজন উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিদের ভাড়াটে হিসেবে ডেকে আনে। পরে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠি, গাছের ডাল ও ইট-পাটকেল নিয়ে ইউএনও’র নেতৃত্বে চলা অভিযানে থাকা সদস্যদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করে। এসময় তাদের বহনকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের সরকারি গাড়ি (বগুড়া-ঠ-১১-০০৪৫) ভাঙচুর করা হয়। এসময় ভূমি অফিসের চেইনম্যান শ্রী উজ্জল কুমার পাল ও নৈশ্যপ্রহরী মনজুরুল হক বাচ্ছুকে বেধরক মারপিট করে আহত করা হয়। একপর্যায়ে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। আর পুলিশের উপস্থিতি আঁচ করতে পেরে হামলাকারী বালুদস্যুদের ভাড়াটে লোকজন পালিয়ে যান।