কুয়াকাটায় পর্যটক‌দের ছ‌বি ও জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক

News News

Desk

প্রকাশিত: ১২:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০
মোঃ সাইমুন ইসলাম, কলাপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি:

সাম্প্রতিক সম‌য়ে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় খুন, আত্মহত্যাসহ অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা। এসব ঘটনাসহ নানা অপরাধ প্রবণতা রো‌ধে পুলিশের পক্ষ থেকে আগের দেয়া ১৮‌‌টি নির্দেশনার প্রতি পুনরায় তাগিদ দেয়া হ‌য়ে‌ছে হো‌টেল-মো‌টেল কর্তৃপক্ষ‌কে। এরম‌ধ্যে প্রতি‌টি হো‌টে‌লে পর্যটক আগমনকা‌লে তা‌দের ছ‌বি ও জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দেয়া বাধ্যতামূলক ঘোষণা দেয়া হ‌য়ে‌ছে।

বুধবার বিকালে হোটেল মোটেল, কটেজ, রিসোর্ট মালিক ও তাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় পু‌লিশ সুপার এ নির্দেশনা দেন। পর্যটন করপোরেশনের যুবপান্থ নিবাসের হল রুমে অনুষ্ঠিত সভায় মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান পিপি এম ।

তিনি বলেন, কুয়াকাটায় ধারাবাহিকভাবে খুন, আত্মহত্যাসহ নানা অপরাধ প্রবণতা রোধে হোটেল কর্তৃপক্ষকে আরও সচেতন হতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে জেলা পুলিশের নির্দেশনা মোতাবেক হোটেলে অবস্থানকারী পর্যটকদের ১৮টি তথ্য পূরণ করলে অপরাধীরা এমন অপরাধ করতে সাহস পেতো না। আগত পর্যটক এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে হোটেলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যটকদের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংরক্ষণ করতে হবে। অধিকাংশ হোটেলে পুলিশের দেয়া এসব নিয়ম না মেনে হোটেল পরিচালনা করার কারণে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, যেসব আবাসিক হোটেল নিয়ম মেনে হোটেল পরিচালনা করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে জড়িত হোটেলগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুয়াকাটা পৌর মেয়র আ. বারেক মোল্লা, কলাপাড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আহম্মেদ আলী, কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোন’র ইন্সপেক্টর মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত হোটেল মোটেল মালিক ও তাদের প্রতিনিধি, সুধীজন ও সাংবাদিকসহ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাসির উদ্দিন বিপ্লবসহ আরও অনেকে।

হোটেল পরিচালনায় পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে মুক্ত আলোচনায় বক্তারা আবাসিক হোটেলগুলোতে অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধের তাগিদ দিয়েছেন।