মসজিদে বিস্ফোরণ: আরও একজনের মৃত্যু, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬

News News

Desk

প্রকাশিত: ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২০

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় রোবাবার রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে মনির ফরাজি (৩০) নামে আরও একজন আইসিইউতে মারা গেছেন। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

 

 

গত শনিবার রাত আড়াইটার দিকে মারা যান শামীম হাসান। রোববার সকালে জুলহাস এবং আলী মাস্টার নামে আরও দু’জনের মৃত্যু হয়। সন্ধ্যার দিকে মারা যান আব্দুল বাশার নামে আরেকজন। এর আগে মসজিদের ইমাম আব্দুল মালেক (৬০) ও মুয়াজ্জিনসহ ২১ জন মারা গেছেন। সবমিলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৬ জনে।

বার্ন ইনস্টিটিউটে বাকি ১১ জন, যারা মৃত্যুর সাথে লড়ছেন তাদের সবার অবস্থা সংকটাপন্ন। প্রত্যেকেরই শ্বাসনালি, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে গেছে। শ্বাসনালি পুড়ে যাওয়ায় তারা কেউ আশঙ্কামুক্ত নন বলে জানান হাসপাতালটির সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন।

 

এদিকে, নিহতদের মধ্যে ১৬ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মরদেহ হস্তান্তরের পর গতরাতেই ১৪ জনকে দাফন করা হয় নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায়। বাকি দু’জনের দাফন হয়েছে তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়।

 

একসাথে ছয়টি এসি বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন- মোস্তফা কামাল (৩৪), নারায়ণগঞ্জ কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রিফাত (১৮), গার্মেন্টকর্মী মো. রাসেদ (৩০), দুই সন্তানের জনক হুমায়ুন কবির (৭০), গার্মেন্টকর্মী ইব্রাহীম বিশ্বাস (৪৩), জুয়েল, সাব্বির (২১), মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৮) ও তার সন্তান জুনায়েদ (১৭), চাকরিজীবী মো. জামাল আবেদিন (৪০), কুদ্দুস ব্যাপারী (৭২), পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন (১২), জয়নাল (৫০), কাঞ্চন হাওলাদার, গার্মেন্টকর্মী নয়ন, ৭ বছরের শিশু জুবায়ের, ওয়ার্কশপ শ্রমিক রাসেল (৩৪) ও মো. বাহাউদ্দিন (৫৫), মো. মিজান (৪০), মসজিদের ইমাম আবদুল মালেক নেসারি (৫৫), শামীম হাসান, আব্দুল বাশার, মনির ফরাজি (৩০) ও ফটো সাংবাদিক নাদিম হোসেন (৪৫)।

 

এদিকে এসি বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ব্যাপারে তিনি সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছেন এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল জিল্লুর রহমানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্মণ, উপ-পরিচালক (অপারেশন) নুর হাসান এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আরেফিন। তদন্ত কমিটিকে আগামী ১০ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

এছাড়া, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খাদিজা তাহেরী ববিকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে আগামী ৫ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ঢাকা অফিসের মহাব্যবস্থাপক (জিএম-পরিকল্পনা) আবদুল ওহাব তালুকদারকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে ৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

 

দুর্ঘটনার পর মসজিদের ভেতরে মেলে বিস্ফোরণের সূত্রপাতের চিহ্ন। মসজিদ ভবনের নিচ দিয়ে গেছে তিতাস গ্যাসের লাইন। সেখানে থাকা ছিদ্র দিয়ে বেরুচ্ছে গ্যাস ও পানি। স্থানীয়রা জানালেন, বেশ কয়েকদিন ধরে নামাজ পড়ার সময় গ্যাসের গন্ধ পাচ্ছেন তারা। এনিয়ে বেশ কয়েকবার ইমাম ও মসজিদ কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

 

এর আগে শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পৌনে ৯টায় মসজিদের ভেতরে থাকা এসির বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে মসজিদের ভেতরে থাকা ৩০ থেকে ৪০ জনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তারা। তাদের অনেকেই দগ্ধ ও আহত ছিলেন।