কুয়াকাটায় ইলিশে এনেছে আনন্দ জোয়ার, দামে ভাঙছে জেলের মন!

News News

Desk

প্রকাশিত: ৯:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২০
ইমরান, কুয়াকাটা :

পটুয়াখালী, কুয়াকাটা, মহিপুর মৎস্য বন্দর আলিপুর, সাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। সাগরে আহরিত ইলিশে গত দুই সপ্তাহ ধরে মৎস আড়দে আসছে শত শত মন ইলিশ এত ইলিশ দেখে আনন্দ মুখরিত হয় জেলেপাড়া গুলো।

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জেলেরা ট্রলার ও বোট ভর্তি করে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরছেন। আর বাজারগুলো সয়লাব হয়ে গেছে ইলিশে। দামও তুলনামূলকমে গেছে । কয়েক বছর আগেও দেশের মানুষ এমন দামে ইলিশ পাতে তোলার কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারতেন না।
গত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই, টানা ৬৫ দিন ইলিশ ধরতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মৎস্য অধিদফতর।
আর অন্যদিকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে তারও অনেক আগে থেকেই বন্ধ হয়ে যায় ইলিশ ধরার স্বাভাবিক কার্যক্রম।
এত দীর্ঘ বিরতির পর ২৩ জুলাই রাত থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পরও অনেকদিন যাবত দেখা মেলেনি ইলিশের, এইজন্য সমস্যা পোহাতে হচ্ছে হাজারো জেলেদের, খেয়ে না খেয়ে দিনযাপন করতে হয়েছিল অবহেলিত এলাকার জেলেদের।

হঠাৎ আল্লাহতালার অশেষ রহমতে দুই সপ্তাহ ধরে ধরা পড়ছে মন কে মন ইলিশ, এমন ইলিশের সমাহার দেখে হাসি ফুটেছে কুয়াকাটা, মহিপুর, আলিপুরের জেলেপাড়ার মানুষের মুখে।
এসময় আনন্দের সাথে জেলেরা ট্রলার, বোট বোঝাই করে ইলিশ ধরতে থাকে।দীর্ঘ সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকায় সেই সঙ্গে এ বছর বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ার কারণে, নদীতে পানি প্রবাহ বেড়েছে এবং ইলিশ আগের চেয়ে বেশি ধরা পড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন অনেকদিন যাবত সাগর ও নদীতে মাছ ধরা নিষেধ থাকার কারণে এবছর মাছের সাইজ বড় আকারে দেখা গেছে এবং মাছ খেতে অনেক সুস্বাদু হয়ে গেছে।
অভ্যন্তরীণ নদ-নদী এবং সাগরে সারা বছরই কম বেশী ইলিশ আহরিত হয়। শ্রাবন-ভাদ্র-আশ্বিন এই ৩ মাস ইলিশের প্রধান মৌসুম। এ বার ভরা মৌসুমের শুরুতে নদী-সাগরে ছিল ইলিশের আকাল। মৌসুম শুরুর দেড়মাস পর মধ্য ভাদ্র থেকে নদ-নদী আর সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করে। এ সপ্তাহে ৭ থেকে ১০ হাজার মণ ইলিশ আসছে মোকামে। সব শেষ এক দুই দিনে প্রায় ৩ হাজার মণ ইলিশ এসেছে মোকামে। এর মধ্যে নদীর ইলিশ অল্প-সাগরের ইলিশ বেশী।
স্থানীয়দের চাহিদা মোটানোর পরও উদ্বৃত্ত থাকা ইলিশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই কুয়াকাটা, মহিপুর, আলিপুরে। এ কারণে দরপতন হয়েছে ইলিশের।

মনিপুরের মৎস্য আড়তদার মোঃ জহির সিকদার জানান, মোকামে অন্তত ৩ হাজার মণ ইলিশ এসেছে এই দুই দিনে। যার বেশীরভাগ সাগরের। স্থানীয় বাজারে বিক্রির পরও অবশিষ্ট ইলিশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। একসাথে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ আসায় দরপতন হয়েছে।

কুয়াকাটা আল্লাহর দান মৎস্য ফির্সের আড়তাদার মো. রুবেল বেপারী জানান, বৃহস্পতিবার দেড় কেজি সাইজের প্রতি মণ ইলিশ ৩৮ হাজার, ১ কেজি ২শ’ গ্রাম সাইজের প্রতি মণ ৩২ হাজার, কেজি সাইজের প্রতিমণ ৩০ হাজার, রপ্তানিযোগ্য এলসি সাইজ (৬শ’ থেকে ৯শ’ গ্রাম) ২৬ হাজার, ভেলকা (৪শ’ থেকে ৫শ’ গ্রাম) সাইজ প্রতি মণ ২২ হাজার এবং গোটলা সাইজ ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে ১৪ হাজার টাকা মণ দরে। এই দুই দিনে মাছ প্রচুর হওয়ার কারণে বৃহস্পতিবারের চেয়ে দাম অনেক কমে গেছে।

মহিপুর -আলিপুর মৎস আড়দের সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, এত পরিমাণ ইলিশ আসছে, রাখার জায়গা নেই। সংরক্ষণের জন্যও নেই কোন হিমাগার। কম দামে ছেড়ে দিতে হচ্ছে ইলিশ। এতে যারা সাগর-নদীতে ইলিশ আহরণ করে সেই জেলে ও ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছে। জেলে ও ব্যবসায়ীরা মৌসুমের এই সময়টার জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে। অথচ ভরা মৌসুমে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। ইলিশের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করে জেলে ও ব্যবসায়ীদের লোকসানের কবল থেকে বাঁচাতে অন্তত ভরা মৌসুমে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি।