স্পেনের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে জয় হাতছাড়া জার্মানির।

News News

Desk

প্রকাশিত: ৩:১৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২০

উয়েফা নেশন্স লিগের প্রথম আসরে নিজেদের মেলে ধরতে চরমভাবে ব্যর্থ হওয়া জার্মানি এবারে জয়ে শুরুর সম্ভাবনা জাগিয়েছিল। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে পাল্টে গেল ম্যাচের দৃশ্যপট। ডিফেন্ডার হোসে লুইস গায়ার গোলে মূল্যবান ১ পয়েন্ট নিয়ে ফিরল স্পেন।

বার্লিনের মার্সিডিজ-বেঞ্চ অ্যারেনায় বৃহস্পতিবার টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধনী দিনে ‘এ’ লিগে ৪ নম্বর গ্রুপের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। টিমো ভেরনারের গোলে স্বাগতিকরা এগিয়ে যাওয়ার পর সমতা টানেন গায়া।

উয়েফা নেশন্স লিগে এ পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচ খেলে জয়শূন্যই রইলো জার্মানি।

গত আসরে ‘এ’ লিগের ১ নম্বর গ্রুপে চার ম্যাচে জয়শূন্য ছিল জার্মানি। দুই ড্রয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে তিন দেশের গ্রপে তলানিতে থেকে শেষ করা দলটিকে শুরুর নিয়ম অপরিবর্তিত থাকলে এবার খেলতে হতো ‘বি’ লিগে।

 

বড় দুই দলের লড়াইয়ের শুরুতে কারোর খেলায় ছিল না চেনা ছন্দ। একরকম হঠাৎ করেই একাদশ মিনিটে সুযোগ পেয়ে যান জার্মানি টিলো কেরার। তবে তার কাছ থেকে নেওয়া হেড কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান গোলরক্ষক দাভিদ দে হেয়া।

 

তিন মিনিট পর নিজেদের ভুলে গোল খেতে বসেছিল স্বাগতিকরা। এমরে কান নিজেদের সীমানায় বল হারালে পেয়ে যান রদ্রিগো মরেনো। তাকে থামাতে ডি-বক্সের বাইরে বেরিয়ে এলেও প্রথম দফায় বলে পা লাগাতে পারেননি গোলরক্ষক কেভিন ট্রাপ। তবে সামনে ফাঁকা পেয়েও শট নিতে দেরি করে ফেলেন রদ্রিগোও। পেছন থেকে এসে বল ক্লিয়ার করেন ট্রাপ।

অষ্টাদশ মিনিটে আবারও দে হেয়ার নৈপুণ্যে জাল অক্ষত থাকে স্পেনের। লেরয় সানের জোরালো শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলরক্ষক। ৩৪তম মিনিটে গোলরক্ষক বরাবর শট নেন জার্মানি ইউলিয়ান ড্রাক্সলার।

দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে এগিয়ে যায় জার্মানি। বাঁ দিক থেকে রবিন গোজেন্সের বাড়ানো বল ধরে জায়গা বানিয়ে নিচু শটে ঠিকানা খুঁজে নেন গত জুলাইয়ে লাইপজিগ ছেড়ে চেলসিতে যোগ দেওয়া ভেরনার।

সাত মিনিট পর সমতায় ফিরতে পারতো সফরকারীরা; কিন্তু রদ্রিগোর দূরপাল্লার শট ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। ৬১তম মিনিটে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ভেরনার। ডি-বক্সে সানের পাস খুব ভালো না হলেও ফাঁকায় পেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু তার প্রথম ছোঁয়ায় নেওয়া শট লাগে পাশের জালে।

৭০তম মিনিটে থিয়াগো আলকান্তারার জোরালো শট পোস্টের একটু বাইরে দিয়ে গেলে হতাশা বাড়ে স্পেনের। আট মিনিট পর বায়ার্ন ডিফেন্ডার নিকলাস সুলের জোরালো হেড দে হেয়া কর্নারের বিনিময়ে ঠেকালে ব্যবধান বাড়েনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে হেসুস নাভাসকে বসিয়ে ১৭ বছর বয়সী আনসু ফাতিকে নামান স্পেনের কোচ। ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে গোলের রেকর্ড গড়া বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জালে বল পাঠিয়েছিলেন; কিন্তু এর আগমুহূর্তে সের্হিও রামোস ফাউল করায় গোল মেলেনি।

এরপরই ম্যাচের সেই নাটকীয় মুহূর্ত। ডান দিক থেকে ফেররান তরেসের ক্রসে লাফিয়ে হেড করেন রদ্রিগো আর গোলমুখে দাঁড়ানো গায়া ছোট একটা টোকায় বল জালে ঠেলে দেন। হারতে বসা ম্যাচে পয়েন্ট পাওয়ার উল্লাসে মাতে স্পেন।

‘এ’ লিগের ৪ নম্বর গ্রুপের অন্য ম্যাচে ইউক্রেন ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হারিয়েছে সুইজারল্যান্ডকে।